শেষ কয়েকদিন ধরেই টুইট কাণ্ডে জেরবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতি। এই টুইট যুদ্ধে সায়নীরই সাথ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সায়নীর টুইটকে একপ্রকার সমর্থন করেই তৃণমূল সুপ্রিমো তীব্র ভাষায় দাগলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়কে।
এদিন পুরুলিয়ার হাট্মুড়ার জনসভা করেন মমতা। সেই সভামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, “সায়নী ঘোষ বলে একটি মেয়েকে ধমকাচ্ছে। ও সিনেমার কাজ করে। নিজের নাতনির বয়সী একটি মেয়েকে তিনি ভয় দেখাচ্ছেন”। এরপরই উচ্চস্বরে মমতার হুংকার বাংলায় ধমকের রাজনীতি করতে এলে আমি রুখে দাঁড়াব। বাংলায় ধমকালে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে দেব”।
উক্তিরে স্পষ্ট করে কারোর নাম না বললেও, তিনি যে এই কথাগুলো তথাগত রায়কেই বলেছেন, এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। সায়নীকে সমর্থন করা মানেই হিন্দু দেবদেবীদের অপমান মেনে নেওয়া বা পরোক্ষভাবে হিন্দু ভাবাবেগেই আঘাত করা। তৃণমূল মাননীয়াও একই পথেই হাঁটলেন। সায়নীকে সমর্থন করেছেন তৃণমূলের নয় নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
ঘটনার শুরু কিছুদিন আগে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি টক শো-তে গিয়ে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ বলেন যে, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটি রণধ্বনিতে পরিণত হয়েছে। ঈশ্বরের নাম ভালবেসে নেওয়া উচিত। এই কথার প্রেক্ষিতেই এক ব্যক্তি টুইটারে আক্রমণ করেন সায়নীকে। এরপরই টুইট যুদ্ধ বাঁধে সায়নী ও তথাগত রায়ের মধ্যে।
এরপরই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ২০১৫ সালে শেয়ার করা সায়নীর একটি পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তথাগতবাবু। এই টুইটটি ছিল একটি গ্রাফিক টুইট। তাতে দেখা যায়, শিবলিঙ্গে এক মহিলা কন্ডোম পরাচ্ছেন। আর গ্রাফিকে লেখা ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। তথাগত রায়ের অভিযোগ, সায়নীর এই পোস্ট ইচ্ছাকৃত এবং তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। তিনি দাবী করেন, সায়নীর বিরুদ্ধে যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শেষ কিছুদিন ধরেই এই টুইট নিয়ে চলছে বিতর্ক। কিছু মানুষ সায়নীর বিপক্ষে কথা বলেছেন, তো অনেকে আবার তাঁকে সমর্থনও জানিয়েছেন। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে সমর্থন করেই তথাগত রায়কে শাসালেন।





