করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কোনও খামতি রাখতে চায় না রাজ্য সরকার। তাই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী সকল বিদেশফেরত নাগরিকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, ‘‘দায়িত্বশীল হোন। যাঁরা ফিরেছেন, তাঁরা ১৪ দিন বাড়িতে থাকুন। কয়েক দিন বাড়িতে থাকলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান। তাতে রাজ্য বাঁচবে। রাজ্য বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’’
সাথে তাঁর সংযোজন, মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘কেন্দ্র কার্যকর করেছে বলে আমরাও রাজ্যে মহামারী রোগ আইন কার্যকর করেছি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ওই আইনের আওতায় যা করার করা হবে।’’
তাঁর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের আবহে বিদেশ থেকে কলকাতায় এসেছেন ৯৫ হাজার মানুষ। এঁদের অনেকেই এসেছেন ব্রিটেন, ইতালি, স্পেন, চিন বা পশ্চিম এশিয়া থেকে। গত এক মাস ধরে বিদেশ-ফেরত মানুষই নবান্নের চিন্তা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, কলকাতার প্রথম দু’জন করোনা-আক্রান্ত বিলেত থেকে করোনা নিয়ে থেকে ফিরেছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ-ফেরত নাগরিকদের একাংশ ঘরবন্দি থাকছেন না। শুক্রবারেই বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের একটি আবাসনের বিলেত-ফেরত দুই মহিলা বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করছিলেন। পরে আবাসিকদের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাঁদের মহামারী রোগ প্রতিরোধ আইনে তুলে এনে পরীক্ষা করায়। তাঁদের ১৪ দিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বরাহনগরে পুরসভার পক্ষ থেকে জেলাশাসকের কাছে বিদেশ-ফেরত তিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ জানানো হয়েছে।
করোনা-আক্রান্ত দেশ বা রাজ্য থেকে কেউ ফিরলেই তাঁর নাম নথিভুক্ত তৈরি করতে এসডিও এবং বিডিওদের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক নিখিল নির্মল। ব্যক্তির নাম, এলাকার নাম, কোন দেশ বা কোন রাজ্য থেকে আসা, মোবাইল নম্বর, কোনও উপসর্গ মিলছে কি না, মিললে পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না— এই সব তথ্য তালিকাভুক্ত করতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে।
অন্যদিকে, কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়া ঘুরে কলকাতায় নেমেছেন ৬২৮ জন যাত্রী। তাঁদের সকলকেই কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
মোদ্দা কথা, করোনা মোকাবিলায় কোনোকিছুর সাথেই আপোষ করতে চাইছে না রাজ্যসরকার। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াইশো ছুঁলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যে আক্রান্ত মাত্র তিনজন।





