‘কোনও ঝগড়া আমি অ্যালাউ করব না’, সভা মঞ্চ থেকে অর্জুন ও সোমনাথকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে জেলায় জেলায় কর্মসূচি করছে তৃণমূল। এরই মধ্যে আবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার সভা থেকেই এই গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ, বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গায় সভা ছিল তৃণমূলের। এদিন এই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামও। গত কয়েকদিন ধরেই এই দুই নেতার মধ্যেকার তরজা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এদিন সভা মমতা বলেন, “যদি কেউ দুঃখ করে ঘরে বসে থাকেন, তাহলে তাঁকে ডেকে নিয়ে আসুন। আমি কোনও ঝগড়া বরদাস্ত করব না। আমাকে ৩৬৫ দিন কাজ করতে হয়”।

গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে বার্তা মমতার

এদিন কারও নাম না করলেও এদিন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “কোনও ঝগড়া বরদাস্ত করব না। বড় হয়েছি বলে কাউকে পাত্তা দেব না। হতে পারে না। আমি শুনছি কেউ কেউ অনেক বড় হয়ে গিয়েছেন। পার্টির কথা মনে রাখছেন না। তৃণমূলে থেকে নিজেকে নয়, মানুষের সেবা করতে হবে”।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে অর্জুন সিং ও সোমনাথ শ্যামের মধ্যে চলছে তুমুল তরজা। কিছুদিন আগে একটি খু’নের মামলায় গ্রেফতার হন সাংসদ অর্জুন সিং-এর ভাইপো পাপ্পু। এরপরই সাংসদ-বিধায়ক তরজা শুরু। পাপ্পুর সঙ্গে সঙ্গে অর্জুনকেও কাঠগড়াত তুলতে থাকেন বিধায়ক। খু’নের ষড়যন্ত্রকারী বলে সাংসদকে আক্রমণ করেছেন বিধায়ক। এবার খোদ দলের সুপ্রিমো বার্তা দিলেন।

পাল্টা আক্রমণ করতেও ছাড়েননি অর্জুন সিংও। সেই দ্বন্দ্বে রাশ টানতে আসরে নামে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি অর্জুন সিং-কে চুপ করে থাকার পরামর্শ দেন। অর্জুন নিজেই জানান সে কথা।

এদিনের সভা থেকে মমতা নিজের রাজনীতির শুরুর দিনগুলোর কঠিন লড়াইয়ের কথাও মনে করিয়ে দেন। বলেন, “আমি যখন ছোটবেলায় রাজনীতি করতাম, তখন হাসপাতালে একটা রোগীকেও ভর্তি করতে পারতাম না। আর আজকে স্বাস্থ্য সাথী থেকে সবুজ সাথীর সাইকেল, স্মার্ট ফোন থেকে কোনটা হয়নি বলুন তো? সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের ৯৭ শতাংশ ওবিসির আওতায় এনে আমরা সকলকে উচ্চশিক্ষার সরকারি সুবিধার মধ্যে এনেছি। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের হয়ে এত কাজ, এর আগে কোথায় কে করেছে বলুন তো”?

RELATED Articles