ভারতের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। কে কতটা ধনী, আর কার হাতে আছে সীমিত সম্পদ—এই প্রশ্ন ঘিরে চলে নানা আলোচনা। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই ফের শুরু হয়েছে সেই বিতর্ক। দেশের ৩১ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে কারও সম্পদ কোটির ঘরে, আবার কেউ বা সাধারণ ঘরের মতো অল্প আয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মিলিত সম্পদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৬৩০ কোটি টাকায়। তবে সবার নজর কেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কারণ, তিনি দেশের সবচেয়ে ‘গরিব’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে এসেছেন এই তালিকায়। রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও, ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণে তিনি রয়েছেন একেবারে নীচের দিকে।
এডিআর-এর রিপোর্ট বলছে, মমতা ব্যানার্জির ঘোষিত সম্পত্তি বর্তমানে মাত্র ১৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০.৪ লক্ষ টাকা, সেখানে ২০২১ সালের ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, তাঁর কাছে নগদ ৬৯ হাজার টাকার মতো ছিল এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩.৫ লক্ষ টাকা জমা ছিল। এর সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা এবং নয় গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কারের হিসাবও দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর নামে কোনও জমি বা আবাসিক বাড়ির উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ধনী মুখ্যমন্ত্রী হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকারও বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের পেমা খান্ডু, যার ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা। জম্মু-কাশ্মীরের ওমর আবদুল্লাহর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা, আর কেরলের পিনারাই বিজয়নের সম্পদ রয়েছে এক কোটি টাকার কিছু বেশি। এডিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে এই দুই নেতা—নাইডু এবং খান্ডুই কোটিপতি।
আরও পড়ুনঃ মেসির সফরে উন্মাদনা, কেরালায় আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ, কলকাতাতেও বিশেষ অনুষ্ঠান
এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ এডিআর-এর সমন্বয়কারী উজ্জয়িনী হালিম জানান, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পরে আয়কর দফতরে পাঠানো হয়, তবে সেগুলির যথাযথ যাচাই-বাছাই হয় কি না তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, ভারতে নির্বাচনী ব্যয় ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের প্রার্থীদের জন্য ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। বাস্তবে তাই দেখা যাচ্ছে—যেখানে অনেক মুখ্যমন্ত্রী কোটিপতি, সেখানে মমতা ব্যানার্জি এখনও তুলনামূলকভাবে সাধারণ জীবনযাপন করছেন।






