ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর হামলা ও অপমানের প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। বুধবারের কর্মসূচিতে থাকছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে এই রাজনৈতিক মিছিল ঘিরেই রাজ্যে শুরু হয়েছে প্রবল চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “এই মিছিলের পেছনে রয়েছে ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতি।”
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক মাসে দেশের একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অপমান করা হচ্ছে। কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে বারবার জানালেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর জেরেই এই প্রতিবাদ। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর পালটা প্রশ্ন, “হঠাৎ এতদিন পর বাঙালিদের হয়ে মুখ খুললেন কেন মুখ্যমন্ত্রী? এর পেছনে অন্য উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “যখন গোটা দেশে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাড়ানোর কাজ চলছে, তখন তৃণমূল সেই অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে চাইছে। কাদের স্বার্থে? বাংলা ভাষী রোহিঙ্গা নাকি বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থে?” তাঁর মতে, বাঙালির দাবি নয়, এটা আসলে অনুপ্রবেশকারীদের ‘বাঁচানোর’ চক্রান্ত।
শুধু রাজনৈতিক ইঙ্গিত নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বাঙালিদের উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “মনোজ পন্তকে মুখ্যসচিব ও রাজীব কুমারকে ডিজি করা হয়েছে, অথচ তাঁদের জায়গায় সিনিয়র বাঙালি অফিসার অত্রি ভট্টাচার্য বা সুব্রত গুপ্ত ও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়রা ছিলেন।” তাঁর দাবি, মমতা সরকারের কাছে নিজের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ Railway Tragedy: হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল—রেল আসতেই শেষ! দুর্গানগরের কাছে যুগলের রহস্যমৃত্যুতে তোলপাড়, কী বলছে পুলিশ?
এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের সোজাসাপটা অভিযোগ, “মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিনে গেছেন। ভোট ছাড়া তাঁর কাছে আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাঙালি অস্মিতার মোড়কে আসলে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।” অর্থাৎ, শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের আগে একদিকে বাঙালি আবেগে রাজনীতি, অন্যদিকে সরকারে অনুপ্রবেশকারী রক্ষা ও দুর্নীতি চাপা দেওয়ার ছক—এই দুই উদ্দেশ্যেই পথে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী।





