একটি যুগল, রেললাইনের উপরে হাত ধরে দাঁড়িয়ে, ডাউন ট্রেন আসতেই ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল দুটি প্রাণ। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার রেলপথে। প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন, তা শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়। সত্যিই কি আত্মহত্যা, নাকি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র? উত্তর খুঁজছে রেল পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে, বিরাটি ও দুর্গানগর স্টেশনের মাঝে। স্থানীয়রা জানান, ওই যুগল অনেকক্ষণ ধরেই রেল লাইনের উপরে হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন ডাউন লোকাল ট্রেন ছুটে আসে, তখনই দু’জন একসঙ্গে ঢুকে পড়ে লাইনের মাঝখানে। প্রচণ্ড গতির ধাক্কায় শরীর দু’টি ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে রক্তে রঞ্জিত রেললাইন দেখে শিউরে উঠেছে এলাকাবাসী।
দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে এখনও পর্যন্ত ওই যুগলের নাম, পরিচয় কিছুই জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় জানতে আশপাশের থানাগুলিতে খোঁজ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কেউই ওই যুগলকে আগে দেখেননি, ফলে তাঁরা এলাকার বাইরের বলেই অনুমান করছেন সকলে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমি দেখলাম দুর্গানগরের দিকে একজন পুরুষ আর একজন মহিলা হাত ধরে লাইনে উঠছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তার পরেই ট্রেন চলে এল। পরে শুনলাম ওরা কাটা পড়েছে। তবে এদের আগে কোনওদিন দেখিনি। এলাকার লোক বলেই মনে হয়নি।” এই বক্তব্য থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত আত্মহত্যা হলেও হতে পারে, যদিও পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনার পাশাপাশি খুনের দিকটাও খতিয়ে দেখছে।
আরও পড়ুনঃ Odisha college suicide : কলেজে আগুন দিয়ে মৃত্যু*র জেরে উত্তাল ওড়িশা! বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ, চলল কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান!
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটা নিছক আত্মহত্যা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে কোনও জটিল গল্প? রেল পুলিশ বলছে, পরিবারের খোঁজ মিললে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। আপাতত আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এবং রেল ট্র্যাকের আশেপাশে কোনও সুইসাইড নোট বা প্রমাণ আছে কিনা, তাও খোঁজা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, এই মৃত্যুর আসল রহস্য। আপাতত পুরো এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও অজানা আশঙ্কা।





