করোনা ভাইরাস রুখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা রোধে এবার কলম ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। আর তাতে পরোক্ষে বিঁধলেন স্বরাষ্ট্র দফতরের সেই আমলাকেই , যাঁর ছেলে করোনায় আক্রান্ত।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর শিল্পের মাধ্যমে নিজের প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন। এবার নিজের কলমকে বেছে নিলেন সমাজের বিত্তবানদের অপদার্থতাকে সাধারণ মানুষের সামনে আনতে।
এই কবিতায় সমাজের উচ্চবিত্ত লোকদের একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা সমাজকে বাঁচাতে পারত, তাঁরাই কি সঠিক কাজ করেছেন। সব জেনেও তাঁরা চুপ করে থেকেছেন। নিজেদের ভাল ছাড়া কিছুই বোঝেন না তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর এই ক্ষোভ যে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের ওই আমলার উদ্দেশ্যে তা স্পষ্ট।
আগেই তাঁদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা নিয়ে চারিদিকে আতঙ্কের পরিবেশে নবান্নেরই এক আমলার ছেলে এই কাজ করেছে, সেখানে আমলাও কোনো বাধা দেননি ছেলেকে, এই ঘটনাই রুষ্ট করেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। এই কবিতায় তাঁর সেই ক্ষোভ ফের ফিরে এসেছে।
এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের প্রথম করোনা আক্রান্তের বাবা-মা’র দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এখনও ক্ষুব্ধ। কারণ, এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বিরোধীরাও মমতাকে প্রকারান্তরে দোষারোপ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন বার্ড ফ্লু, ইবোলা, সার্স সব গেল এখন এসেছে করোনা। এই নিয়ে সকলকে একযোগে থেকে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নবান্নে এক রিভিউ বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪ লক্ষ মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে এক জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পাশাপাশি, সরকারি আইসোলেশনে রয়েছেন ২৭জন। বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭,৫৬০জন। এই সংখ্যাটা অনেকটাই আগামী এক সপ্তাহে বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই যথেষ্ট বেড বাড়ানো হচ্ছে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ২ লক্ষ মাস্কের বরাত দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিমাও করানো হয়েছে।





