ধর্ষণ করে খুন শিশুকন্যাকে, ক্ষিপ্ত জনগণের পাল্টা মারে মৃত্যু অভিযুক্তের, ধুন্ধুমার কাণ্ড এলাকায়

শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী। উত্তেজিত জনতার পাল্টা মারে মৃত্যু অভিযুক্তের। এমন ঘটনায় শোরগোল গোটা এলাকাজুড়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার খগেনহাট এলাকায়। এই এলাকারই বাসিন্দা ৬ বছরের ওই নাবালিকা। তাকেই ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে সেখানকার বাসিন্দা মনা রায়ের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকারও করে সে। এরপরই অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারে জনগণ।

জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার দুপুরের পর নাবালিকাকে জিলিপি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে নিজের বাড়ি ডেকে নিয়ে যায় ওই মনা রাত। এরপর সেখানে নাবালিকার উপর অত্যাচার চালায়। ধর্ষণের পর খুন করে নাবালিকাকে, এমনটাই অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বিকেলের দিকে মৃত নাবালিকার ঠাকুমা দেখেন, মনা বাড়ির কলে রক্তমাখা হাত ধুচ্ছে। সেই সময় তিনি অভিযুক্তের ঘরে ঢুকে দেখেন নাতনির রক্তমাখা জামাকাপড় পড়ে রয়েছে। তখনই মনা রায়কে ধরে চিৎকার করতে থাকেন তিনি।

চিৎকার শুনে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। মনাকে চাপ দিতেই সে ৬ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও খুনের কথা স্বীকার করে। এও জানায় যে মৃতদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছে সে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। তবে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন ক্ষিপ্ত জনগণ। পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করে নাবালিকার মৃতদেহ। অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক।

এই ঘটনায় মৃত নাবালিকার ঠাকুমা জানান, “মৃত নাবালিকার ঠাকুমা বলেন, “ওকে (মনাকে) রক্তমাখা হাত-পা ধুতে দেখে আমার সন্দেহ হয়। তার পর ওর ঘরে গিয়ে দেখি নাতনির রক্তমাখা জামাকাপড়। তখন ওকে জাপটে ধরে চিৎকার করতে শুরু করি। সকলের সামনে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে ও”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ফালাকাটা থানার আইসি সমিত তালুকদার বলেন, “শিশুর মৃতদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের স্বার্থে এর থেকে বেশি কিছু বলা যাবে না”।

RELATED Articles