পুরনো বন্ধুদের মধ্যে কত সময় কত ধরণের ইয়ার্কিই চলে। বন্ধু মানেই তো এমন এক জায়গা যেখানে মন খুলে কথা বলা যায়। বন্ধুরা একে অপরকে আবার নানান নাম ধরে ডেকে রাগাতেও ভালোবাসেন। তবে বন্ধুকে ইয়ার্কি মেরে এক বিশেষ নামে ডাকার কারণে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা হয়ত কল্পনাও করেন নি মিঠু রায়।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
মিঠু রায় ও রবীন্দ্রনাথ বর্মণ দীর্ঘদিনের বন্ধু। রায়গঞ্জ থানার পোয়ালতোর এলাকার বাসিন্দা তারা। একইসঙ্গে কখনও পাড়ার চায়ের দোকানে বা কখনও আবার লটারির দোকানে বসে আড্ডা মারতেন দু’জন। একে অপরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তাদের। জানা গিয়েছে, রবীন্দ্রনাথ বর্মণ মিঠু রায়কে দেখলেই অন্য নাম ধরে ডাকতেন। যা একেবারেই পছন্দ করতেন না মিঠু রায়। এ নিয়ে আগেও ঝামেলা লেগেছে দুই বন্ধুর মধ্যে। তবে তা মিটেও যেত।
এরই মধ্যে গতকাল, বুধবার সন্ধ্যেতে এক লটারির দোকানে বসেছিল দুই বন্ধু। তখনও মিঠুকে এক বিশেষ নামে ডাকেন রবীন্দ্রনাথ। ফের রেগে যান মিঠু। বচসা বাঁধে দুই বন্ধুর মধ্যে। কিন্তু তা মিটতেই চাইছিল না। আশেপাশের লোকজন তাদের ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু লাভ হয় না।
এই ঝামেলার মধ্যেই আচমকাই মিঠুর হাতেও কামড়ে দেন রবীন্দ্রনাথ। পাল্টা মিঠুও রবীন্দ্রনাথের হাতে কামড়ে দেন বলে জানা যায়। এরপরই রবীন্দ্রনাথ যেন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি সজোরে কামড় বসান মিঠুর ডানহাতের বুড়ো আঙুলে। সেই আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে দেন তিনি। পাল্টা আবার মিঠুও কামড় বসান রবীন্দ্রনাথের বুকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই বন্ধুর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আচমকা এমন ঘটনা ঘটায় স্তম্ভিত হয়ে যান আশেপাশের লোকজন। তারাই দুই বন্ধুকে উদ্ধার করে নিয়ে যান রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দু’জনেরই চিকিৎসা চলছে বলে খবর। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করাও হয়েছে। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।





