এখন যেন আর বাড়িটা তাঁর নেই। বাড়ি জবরদখল করে রেখেছে মশা বাহিনী। মশার উপদ্রব নতুন নয় কিন্তু এখন তিনি যে মশা দেখছেন, সেগুলো যেন আলাদাই দেখতে। আর সেটাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল গৃহকর্তার। সেই কারণেই ঘটিয়ে ফেললেন এক ঘটনা।
তাঁর বাড়ি এমনকি এলাকায় মশার উপদ্রব লেগেই রয়েছে। তবে এমন মশা আগে দেখা যায়নি। মশাগুলি দেখতে সাইজে অনেকটাই বড়। পা গুলিও লম্বা। সেই মশাই চিন্তা বাড়াল ব্যক্তির। তাই আর দেরি না করে প্রায় শ’দেড়েক মশা প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলেন তিনি।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার খুর্তুবা গ্রামে। সেই গ্রামের বাসিন্দা মনসুর আলি শেখ গতকাল, বুধবার এই মশা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে সটান চলে যান মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে। সেখানে যেতেই চিকিৎসক তাঁকে প্রশ্ন করেন, কী সমস্যা রয়েছে তাঁর। সেই সময় ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, “এখনও পর্যন্ত কিছু হয়নি স্যার। তবে আর কিছুদিন পরেই মনে হয় এন্তেকাল হয়ে যাবে। আপনারা এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে”?
তাঁর থেকে এমন কথা শুনে বেশ হতবাক হয়ে যান চিকিৎসক। হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন তিনি। সেই সময় মনসুর আলি শেখ ওই মশা ভর্তি প্লাস্টিক দেখান চিকিৎসককে আর বলেন, “এই দেখুন। এইরকম ডেঙ্গি মশায় গ্রাম ছেয়ে গিয়েছে। চলাফেরা করার সময়েও মশা এসে ছেঁকে ধরছে। ডেঙ্গু মশার সঙ্গে থাকলে আর কতদিন বাঁচতে পারব স্যার? আমার ওষুধ চাই না। মশা মারার ওষুধ কিছু দিন”।
কী প্রতিক্রিয়া চিকিৎসকের?
ওই চিকিৎসক দেখেন যে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে প্রায় শ’দেড়েক মশা রয়েছে। আবার কিছু জ্যান্ত মশাও রয়েছে। তা দেখেই হেসে ফেলেন চিকিৎসক। চিকিৎসক ও ওই ব্যক্তির কথোপকথন শুনে সেখানে হাজির হন স্বাস্থ্য কর্মীরাও। বিষয়টি জানার পর হেসে ফেলেন তারাও।
ওই চিকিৎসকের কথায়, “এই আবহাওয়ার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে একথা সত্য। আগে দেখেছি সাপে কাটলে সেই সাপ ধরে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসতে। এভাবে কাউকে মশা ধরে হাসপাতালে আসতে দেখেনি”।
তিনি আরও বলেন, “এমনিতেই আমরা মশার লার্ভা নিধনে এলাকায় পদক্ষেপ করছি। পাশাপাশি মানুষদের সচেতন করছি। তবে এই কাজে সকলের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন”।
অন্যদিকে মনসুর আলি শেখের দাবী, তাদের গ্রামে ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে হবে। এলাকায় নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে গ্রামে।






