স্কুলে শিক্ষকের আকাল! বার্ষিক পরীক্ষায় গার্ড দিচ্ছেন স্কুলের মিড ডে মিল রান্নার কর্মীরা, কী দশা বাংলার স্কুলের!

স্কুল আছে, মোটামুটি পড়ুয়াও রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক নেই। এমন ঘটনা বাংলার নানান স্কুলেই ঘটছে। কোথাও আবার শিক্ষক রয়েছে তো পড়ুয়া নেই। এমনভাবেই দিনের পর দিন ধরে ধুঁকছে বাংলার স্কুলগুলি। এবার দেখা গেল শিক্ষকের অভাবে পড়ুয়াদের বার্ষিক পরীক্ষায় নজরদারি চালাচ্ছেন স্কুলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীরা। তা নিয়ে বেশ হইচই পড়েছে এলাকায়।

ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুরের শ্রীপুর জুনিয়র হাই স্কুলে। ২০১০ সালে চালু হয় এই স্কুলটি। সেই সময় তিনজন স্থায়ী শিক্ষক ও দু’জন অতিথি শিক্ষক ছিলেন স্কুলে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিনজন স্থায়ী শিক্ষকই বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। আবার একজন অতিথি শিক্ষকও অবসর নিয়েছেন।  

ফলে আপাতত মাত্র একজন অতিথি শিক্ষক নিয়েই চলছে স্কুল। বর্তমানে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে ওই স্কুলে। স্কুলে ৭৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের পক্ষে সমস্ত ঘরে গার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে ক্লাসে পরীক্ষায় গার্ড দিচ্ছেন স্কুলের মিড ডে মিল রান্নার কর্মীরা। স্কুলের একমাত্র অতিথি শিক্ষক হলেন বদরুল ইসলাম। তিনি এক সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বদরুল ইসলাম বলেন, “একাই চারটি শ্রেণি সামলাতে হয়। এখন দু’টি ঘরে পরীক্ষা চলছে। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পড়ুয়াদের উপর নজরদারির কাজ করার জন্য মিড-ডে মিলের রন্ধনকর্মীকে বলেছি। শিক্ষক নিয়োগ না হলে এ রকম অনেক স্কুলের দরজা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে”।

রন্ধনকর্মী বলেন, “শিক্ষক মাত্র এক জন। দুটো ঘরে পরীক্ষা চলছে। স্যার একা সামলাতে পারছেন না। তাই মেয়েদের ঘরে গার্ড দিতে আমাকে বলেছেন”।

mid day meal cook, invigilator, school exam, shortage of teachers, Baharampur

জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সালাম শেখও মাঝেমধ্যে স্কুলে যান সামাল দিতে। পরীক্ষার সময়ও যাচ্ছেন তিনি। তিনি জানান, তিনি এখন অবৈতনিক শিক্ষক। পড়ুয়াদের কথা ভেবেই নিজের বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ওই স্কুলে গিয়ে একটু সাহায্য করেন পড়াশোনায়।

এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষক নেই। ফলে বাড়ির কাছে স্কুল ছেড়ে ছেলেকে ছ’কিলোমিটার দূরে হাই স্কুলে ভর্তি করেছি”। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের দুটি ঘরে বসিয়ে পড়াশোনা করানো হয়। ফলে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। আর এবার রন্ধনকর্মীকে দিয়ে পরীক্ষায় গার্ড দেওয়ানোর ঘটনায় উঠেছে প্রশ্ন।  

আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতির জেরে জেল খেটেছেন, এবার সেই তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে উঠল তোলাবাজির অভিযোগও 

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অমর কুমার শীল বলেন, “উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ চলছে। শিক্ষক নিয়োগ হলে সমস্যার সমাধান হবে। তবে যে সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে, তাতে বহু শিক্ষক পদ ফাঁকা থাকবে”।

আরও অন্যান্য খবর