‘কলকাতার কানাগলি থেকে উঠে আসা, ফুটপাথে লড়াই করা ছেলেটা পাবে দাদা সাহেব পুরস্কার, আমি বাকরুদ্ধ’, আনন্দাশ্রু মিঠুন চক্রবর্তীর চোখে!

অর্ধশতাব্দী ধরে চলচ্চিত্র জগতে রাজত্ব করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। গুরু, মহাগুরু থেকে শুরু করে ডিস্কো ড্যান্সার রূপে পরিচিত হওয়া মিঠুন চক্রবর্তীর অভিনয় জগতের শুরুটা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। অনেক লড়াই অনেক প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে আজ তিনি স্বনামধন্য অভিনেতা রূপে খ্যাতি পেয়েছেন। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির থেকে একটার পর একটা প্রত্যাখ্যান পেয়েও দৃঢ়তার সাথে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন মৃণাল সেনের হাত ধরে। নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি বারংবার।

পরিচালক মৃণাল সেনের মৃগয়া তাকে এক নতুন পরিচিতি এনে দেয়। অভিনেতার কাজের প্রতি অধ্যাবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টা বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে মহাগুরু রূপে। ভারতীয় সিনেমা জগতে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্ম সম্মান তো বহু আগেই পেয়েছিলেন তিনি। এইবার দাদা সাহেব ফালকে সম্মানে‌ও ভূষিত হচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

প্রায় পাঁচ দশকের‌‌ও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে অবদান রেখেছেন তিনি। বর্তমানেও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এই পুরস্কার পাচ্ছেন শুনে তার অনুরাগী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের মমতা শঙ্কর, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রুদ্রনীল ঘোষ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ অনেকেই অভিনেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আর নিজের এই পুরস্কার পাওয়া প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “কলকাতার কানাগলি থেকে এসেছি, সেই ফুটপাথ থেকে লড়ে আজ এখানে এসেছি। সেদিনের সেই ছেলেটিকে আজ এত বড় সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। ভাবতেও পারছি না। আমি বাকরুদ্ধ। তবে এই পুরস্কার আমার পরিবার আর সমস্ত অনুরাগীদের উৎসর্গ করছি।”

একই সাথে অভিনেতা আর‌ও বলেন, “সেভাবে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো ভাষা আমার কাছে নেই। না হাসতে পারছি, না আনন্দাশ্রু চোখ বেয়ে গড়াচ্ছে। এত বড় একটা বিষয়।” মিঠুন চক্রবর্তীর পুরস্কার পাওয়া প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে শ্রী মিঠুন চক্রবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি একজন সাংস্কৃতিক আইকন, তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য সবপ্রজন্মের কাছে প্রশংসিত। আপনাকে অসংখ্য অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।”

মিঠুন চক্রবর্তীর এই পুরস্কার পাওয়া নিয়ে ঋতুপর্ণাও খুব খুশি, বোন হিসেবে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর এই পুরস্কার পাওয়ায় অভিভূত বলে জানান। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “দারুণ একটা খবর। আমি অভিভূত এবং মিঠুনদার জন্য ভীষণ গর্বিত। দাদা আমাদের সকলের গর্ব। হিন্দি-বাংলা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই মিলিয়েই ওঁর সঙ্গে বহুবার কাজের সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য। মিঠুনদা সবসময়ে আমাকে গাইড করেছেন। আমি ওঁর স্নেহধন্যা। ওঁর ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই আমার কাছে আশীর্বাদ।”

Sangita Chatterjee

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর