‘গোটা শহরেই ১৪৪ ধারা জারি করে দিন’, চিকিৎসকদের মিছিলে অনুমতি না দেওয়ায় রাজ্যকে তুমুল ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য উত্তাল। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ আন্দোলন। আগামীকাল, ১ অক্টোবর কলেজ স্কোয়ার থেকে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন। কিন্তু তাতে অনুমতি দেয় নি পুলিশ। সেই মামলাই উঠেছিল কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানিতে রাজ্যকে কটাক্ষ আদালতের।  

গত শনিবার জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসের তরফে চিকিৎসকরা জানান, আর জি করের ঘটনায় দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আগামী ১ অক্টোবর, মঙ্গলবার কলেজ স্কোয়ার থেকে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত মিছিল করবেন তারা। কিন্তু কিছুদিন আগেই পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, আগামী ২ মাস শহরের কিছু অংশে জমায়েত করা যাবে না।  

কলেজ স্কোয়ার থেকে রবীন্দ্র সদন মিছিল করতে গেলে ধর্মতলার কে সি দাস রোড দিয়ে যেতে হবে। আর সেখানেই জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা পুলিশের। ফলে মিছিলের অনুমতি দেয় নি পুলিশ। এই নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আজ, সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল।  

এদিন আদালতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য  বলেন, “কলেজ স্ট্রিট থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ হয়ে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত ডাক্তাররা মিছিল করতে চায়। তবে কেসি দাস থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস হয়ে বেন্টিক স্ট্রিট পর্যন্ত ১৬৩ ধারা জারি। তাই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিছিলের কোনও সংঘাত হবে না। কম লোকের শর্তে পুলিশ অনুমতির আশ্বাস দিয়েছে। ডাক্তারদের মিছিলে ৫০ হাজার লোক হতে পারে বলে পুলিশকে জানিয়েছি। পাল্টা পুলিশ ১ হাজার লোক নিয়ে মিছিলের কথা বলছে। বাইরে থেকে মানুষ মিছিলে যোগ দিলে তাঁদের কী করে নিয়ন্ত্রণ করব”?

এদিন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কেমন করে বন্ধ করবে পুলিশ”? রাজ্য যুক্তি দেয়, “১ হাজার লোক নিয়ে যদি মিছিল করা হয় সেক্ষেত্রে আপত্তি নেই”।

এরপর বিচারপতি পাল্টা বলেন, “‌এক কাজ করুন গোটা শহরে আপনারা ১৪৪ ধারা জারি করুন। তাহলে কোনও আন্দোলন মিছিল, মিটিং হবে না। দুর্গাপুজো হবে না। অথচ এই শহরে আমি ৫০ বছরের কাটানো জীবনে দেখেছি মিছিল মিটিং চলে, পুলিশ নিজের মতো করে তা সামাল দেয়। আমিও মানছি ৫০ হাজার লোক রাস্তায় নামলে সমস্যা হবে। কিন্তু সুরক্ষা দেওয়া তো পুলিশের কাজ”।‌

রাজ্য পাল্টা জানায়, “আমরা কাউকে নিষেধ করছি না। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছি”।‌ বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বলেন, “‌দুর্গাপুজোয় কত ভিড় হবে সেটা কী করে আন্দাজ করে পুলিশ? গত বছর সুরুচি সংঘে দেখেছি পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা হাজার হাজার লোকের ভিড় সামলেছে। সেটা কেমন করে হল”? তবে চিকিৎসকদের মিছিলে অনুমতি দিয়েছে আদালত। জানানো হয়েছে, শর্ত মেনে নির্দিষ্ট রুটেই হবে মিছিল।

আরও অন্যান্য খবর