বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয় হয়েছে বিজেপির। মোদী ম্যাজিককে পর্যদুস্ত করে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর হঠাৎই মমতা সরকারের ওপর সিবিআই হামলা। নারদ কান্ডে রাজ্যের দুই মন্ত্রী-সহ চার নেতা এখন জেলে।
সেই সঙ্গে রাজ্যে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমনের হার। মহামারী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাঝে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আলোচনায় বসলেও যোগ দেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় l
তবে এবার কেন্দ্র-রাজ্য নারদ সংঘাতের আবহে বেলাগাম করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে স্ক্রিনে মুখোমুখি হতে হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন-বিশেষ কারণবশত আজ হচ্ছেনা নারদ মামলার শুনানি! আপাতত জেল হেফাজতেই ৪ হেভিওয়েট নেতা
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দশটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এড়িয়ে সরাসরি প্রশাসনিক কর্তাদের বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীদের বাদ দিয়ে এ ভাবে বৈঠক ডাকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। এরই মধ্যে বাংলার রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় যখন কোমর বেঁধেছে নেমেছে প্রশাসন, তখনই নারদ মামলা অভিযুক্ত চার নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে সিবিআই! যদিও আজকের বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জেলাশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছিলেন, করোনা নিয়ে বৈঠক হলেও, মোদী-মমতা এই ভার্চুয়ালি সাক্ষাতের রাজনৈতিক গুরুত্ব সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে মাথায় রাখলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু আজকের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন তিন কোটি টিকা দিতে বলেছিলাম। সে নিয়ে প্রশ্ন করার কথা ছিল। তার সুযোগই দিলেননা প্রধানমন্ত্রী। হাতে প্রশ্ন নিয়ে পুতুলের মতো বসেছিলাম, অপমানিত বোধ করছি।
তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো মানছেন না প্রধানমন্ত্রী। মিটিংয়ে ডেকে মুখ্যমন্ত্রীদের কথাই বলতে দিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’’ রাগত মমতা বলেন ‘‘মুখ্যমন্ত্রীদের যদি বলতেই দেবেন না তাহলে ডাকলেন কেনও। জেলা শাসকদের নিয়েই তো বৈঠক করতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’’





