Mamata Banerjee : বিএসএফ সীমান্তে টাকা বিলিয়ে ইট ছোঁড়া হয়েছে, বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতার !

সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে অস্বস্তি। সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কেন বারবার অশান্তি? কোথা থেকে উসকানি আসছে, আর এর শেষ কোথায়? বিশেষ করে ধর্মীয় আবহে যখন কোনও সংবেদনশীল প্রসঙ্গ উঠে আসে, তখন তার আঁচ কতদূর ছড়ায়, তা আরও স্পষ্ট হয় মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতাবস্থার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বহু মানুষের চোখ এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ, বুধবারই রয়েছে ওয়াকফ মামলার শুনানি। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন, তা থেকেই স্পষ্ট, রাজনৈতিকভাবে এই ইস্যু কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, অশান্তির পিছনে যদি ‘বাংলাদেশের হাত’ থাকে, তাহলে তার দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের। তাঁর কথায়, “সীমান্ত তো রাজ্য সামলায় না, সেখানে বিএসএফ মোতায়েন থাকে। আপনারা কেন ঢুকতে দিলেন?” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন—“ওয়াকফ আইন তড়িঘড়ি করে কেন পাশ করানো হল? বিজেপি কি সংবিধান মানে না?” মুখ্যমন্ত্রী এদিন সংবিধান ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় সম্পত্তির অধিকার নিয়েও খোলাখুলি বক্তব্য রাখেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অশান্তি একেবারেই পূর্ব পরিকল্পিত। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাইরের রাজ্য থেকে লোক এনে ইট-পাটকেল ছোঁড়ানোর কাজ করেছে। বলেন, ‘‘আমি শুনেছি বাচ্চা ছেলেদের হাতে ৫০০০-৬০০০ টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ইট ছুড়তে পারে।’’ এই ঘটনা BSF বর্ডার এরিয়ায় ঘটেছে বলেও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি। তিনি বলেন, “আপনারা যদি বলছেন বাইরে থেকে লোক এসেছে, তা হলে সীমান্ত দিয়ে ঢোকার দায়িত্ব তো BSF-এর। কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?” পাশাপাশি তিনি বলেন, “বিজেপি বাংলার ভিডিও না দেখিয়ে অন্য রাজ্যের ফেক ভিডিও দেখাচ্ছে।”

মমতা এদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তিপূর্ণ পথে প্রতিবাদের আহ্বান জানান। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনে রাস্তায় নয়, বদ্ধ জায়গায় প্রতিবাদ হোক। বলেন, “দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে হবে।” একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদে অশান্তিতে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন তিনি। যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নতুন ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

আরও পড়ুনঃ Murshidabad : বোমা, মৃত্যু, ঘরছাড়া পরিবার—ধুলিয়ানে কী লুকোচ্ছে প্রশাসন? এনআইএ-র হাতে তদন্ত গেলে ফাঁস হতে পারে বিস্ফোরক তথ্য!

বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগামী এক বছর ধৈর্য ধরতে হবে। এরপর বদল আসবে দিল্লিতে।’’ বিজেপি সরকারকে জনবিরোধী আইন প্রণয়নের জন্য দায়ী করে মমতা বলেন, “যে দিন বিজেপি ক্ষমতা থেকে যাবে, সেই দিন এই সমস্ত আইন বদলাতে হবে। যদি সঙ্কট হয়, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে যেন এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা—যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে পরিকল্পিতভাবেই।

RELATED Articles