মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে হঠাৎ করে শুরু হওয়া উত্তেজনা যেন মানুষের জীবনযাত্রাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। কেউ অফিস যেতে সাহস পাচ্ছেন না, আবার কেউ সন্তানের স্কুলে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত। চেনা শহরে আজ যেন অচেনা আতঙ্ক। বাজার-হাটে ভিড় নেই, সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা, কানে ভাসছে শুধু একটাই শব্দ—‘কী হচ্ছে চারপাশে?’
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নচিহ্নের মুখে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, পুলিশের কাছে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও সাড়া মেলেনি। কোথাও কোথাও রাতে বোমা পড়েছে, আবার কোথাও ঘর ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে আতঙ্ক যেন ঘনিয়ে আসছে মেঘের মতো।
এই অশান্তির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করে আক্রান্ত পরিবারগুলি মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হন। তাঁদের বক্তব্য, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতার নাম করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুর্শিদাবাদে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। সুতি, শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান—এই সব জায়গায় বসবাসকারী কয়েক জন বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে, বোমা ছোঁড়া হয়েছে, পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই তাঁরা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র তদন্ত চান।
এই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ধুলিয়ানে যাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হন। অথচ, তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর আবেদন গ্রহণ করেন। অন্য দিকে, একটি সংগঠন ঘরছাড়া মানুষদের জন্য ক্যাম্প করতে চেয়ে জেলাশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েও তা না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়। এই মামলাটি বিচারপতি অমৃতা সিংহের এজলাসে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ Waqf Act: আজ বড় সিদ্ধান্তের মুখে দেশ! ওয়াকফ আইনে ধর্মের নামে জমি দখল? সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ মামলা!
এই সমস্ত মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে হওয়ার কথা। প্রধান বিচারপতি ইতিমধ্যেই মামলাকারীদের অনুমতি দিয়েছেন আবেদন জমা দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাগুলি আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি ছাড়িয়ে রাজ্য রাজনীতির বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এনআইএ তদন্তে অনুমতি মিললে তা রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





