একুশের নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর ঠিক পরই ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে (Shuvrangshu Roy) নিয়েই বিজেপি ছেড়ে নিজের পুরনো দল তৃণমূলে (TMC) ফিরে যান মুকুল রায় (Mukul Roy)। তৃণমূলও তাঁকে স্বাগত জানায় ভালোভাবেই। কিন্তু বিজেপি ছেড়ে চলে আসার আগে তিনি একটি ‘গুপ্তধন’ ফেলে এসেছেন বিজেপির (BJP) অফিসে। আর তা হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পরিবারের সমস্ত সম্পত্তির হিসাব। বিজেপির দাবী, সেই হিসাবের একটি বই মুকুল রায়ের কাছে থাকত সবসময়। আর সেটাই তিনি ফেলে এসেছেন বিজেপির অফিসে।
স্বাভাবিকভাবেই মুকুল রায়ের সেই বইয়ের এখন তল্লাশি চলছে বিজেপির অফিসে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছয় আত্মীয়র সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা হয়েছে। আর সেই মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত একটি নোটিশও জারি করেছে। এই আবহে এবার বিজেপির তরফে মুকুলের সেই বইয়ের খোঁজ শুরু হয়েছে জোরদারভাবে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুকুল রায়ের সেই বইতে নাকি মমতার পরিবারের ১২০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব ছিল। ২০১৭ সালে যখন মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, সেই সময় তিনি একাধিকবার বিশ্ব বাংলা লোগো ও এর মালিকানা নিয়ে নানান বিস্ফোরক দাবী করেছিলেন।
এও জানা যাচ্ছে যে সেই সময় মুকুল রায় নাকি মমতার পরিবারের সম্পত্তির হিসেবের সেই বইটি দেখিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে। তবে বঙ্গ বিজেপির কাউকে এই বইটি দেখানো হয়নি বলেই খবর। এবার সেই বইয়ের তল্লাশি চলছে বিজেপির তরফে।
বলে রাখি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছয় আত্মীয়ের সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অরিজিৎ মজুমদার। তাঁর হয়ে এই মামলাটি লড়ছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অভিযোগ, ২০১৩ সালের পর থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-বাবা সহ মমতার নানান আত্মীয়ের সম্পত্তি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষিতেই মমতার ছয় আত্মীয়র থেকে হলফনামা চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের যে ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বৃদ্ধির অভিযোগে মামলা হয়েছে তাঁরা হলেন – অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, গণেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়।





