তখনও পর্যন্ত ভারত স্বাধীন হয়নি। সেই সময় পুরুলিয়ার পঞ্চা-সহ গোটা বাংলাতেই চলছে ব্রিটিশ রাজ। এই পুঞ্চাতেই ছিল ব্রিটিশ পুলিশ ফাঁড়ি। সেই সময় সেখানে ওসি ছিলেন জিটি লতিফ। এই ফাঁড়ি থেকে কিছুটা এগোলেই পাহাড়ি এলাকা। সেখানেই আজও ভক্তিভরে পূজিত হন চরণকালী।
কীভাবে শুরু হল এই পুজো?
কথিত রয়েছে, জিটি লতিফ যখন সেখানে ওসি ছিলেন, সে সময় সেখানকার এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা। সেই জঙ্গলের মধ্যে পাথরেই দেবীর পায়ের ছাপ দেখতে পান ওসি। এরপরই মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই সেখানে শুরু হয় কালীপুজো। ৭৭-৭৮ বছর ধরে চলছে এই পুজো। পাহাড়ের পাথরে মায়ের পদচিহ্ন পড়েছিল বলে এই পাহাড়ের নাম চরণপাহাড়ি। আর এখানকার কালীমায়ের নাম চরণপাহাড়ি কালী।
একটা উঁচু টিলার উপর রয়েছে এই মন্দির। গোটা বছরই এখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। আর কার্তিক মাসে দীপান্বিতা অমাবস্যায় ভিড় অনেকগুণ বেড়ে যায়। ভক্তদের ঢল নামে মায়ের পুজো দেখতে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের পুজো এটি। সেই জঙ্গলে ভরা পুঞ্চাও এখন অনেক উন্নত। কোনও বাজার, দোকানের অভাব নেই সেখানে।
তবে আগে পাহাড়ি রাস্তা ছিল বেশ দুর্গম। ফলে খুব মানুষই যাতায়াত করতে পারত এখানে। তান্ত্রিকরা আসতেন মাঝে মাঝে পুজো করতে। সেই সময় ওসি জিটি লতিফ এসেছিলেন এখানে কাজের সূত্রে। সেই সময়ই স্বপ্নাদেশ পান তিনি। তারপর থেকেই পূজিত হয়ে আসছেন মা।
এ মন্দিরের রোজকার পুজো করেন শ্রীধরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মুসলমান এক ওসি ছিলেন এখানে। তিনিই এখানকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী-সহ সমস্ত ধর্ম বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই পুজো চালু করেন। আজও সেই সম্প্রীতি বজায় রেখেই পুজো হয়ে চলেছে। বহু বছর হয়ে গেল এই পুজোর। এখানে সর্বধর্মের মানুষ আছেন। সকলে সহযোগিতা করেন। যিনি ওসি সাহেব ছিলেন, এখানে বসতেন। মা ওনাকে স্বপ্ন দেখান। প্রথমে পাথরই পুজো হতো। সেই চরণ থেকেই চরণপাহাড়ি। পরে মন্দির হল”।
২৫ বছর ধরে এই পুজোর সাক্ষী নিত্যানন্দ ঘোষ। তাঁর কথায়, “জঙ্গলে ঘেরা পাহাড় ছিল। সেখানেই মায়ের পায়ের চিহ্ন দেখেছিলেন ওসি। স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে পুজো শুরু হয়। সেই থেকে চরণপাহাড়ি”





