বিশেষভাবে সক্ষম দৃষ্টিহীন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর রহস্যমৃ’ত্যু হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এই পড়ুয়া। এর জেরে ফের নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গত বছরের আগস্ট মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃ’ত্যুর রেশ এখনও কাটে নি। এরই মধ্যে ফের একবার শিরোনামে যাদবপুর।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, ওই দৃষ্টিহীন ছাত্রীর বাড়ি মালবাজারে। গত ১৬ জানুয়ারি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। ১৮ জানুয়ারি গলায় ফাঁ’স দিয়ে আ’ত্ম’ঘা’তী হন ওই ছাত্রী। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্র ও গবেষক (তারা দৃষ্টিহীন)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে পরিবারের তরফে।
ওই ছাত্রীর পরিবারের দাবী, এই বিষয়ে তারা মালবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি পুলিশের তরফে। জবানবন্দি নেওয়া হবে বলেও নিষ্ক্রিয় পুলিশ। এমনকি, পরিবারের তরফে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিবারের কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পরিবারের দাবী, আ’ত্ম’ঘা’তী হওয়ার আগে ওই ছাত্রী তাঁর উপর হওয়া নির্যাতনের কথা বাড়ির লোককে জানিয়েছিলেন। তবে পরিবারের লোকেরা সেভাবে তাঁর কথায় গুরুত্ব দেয় নি। তাঁরা ভেবেছিলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। অভিযুক্ত ছাত্র ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দাবী তোলা হয়েছে পরিবারের তরফে।
মৃ’ত ওই ছাত্রীর মা জানান, মূল অভিযুক্ত ওই ছাত্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই ছিল তাঁর মেয়ের। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই অভিযুক্ত ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। তাঁকে ড্রা’গ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, এমনকি তা না করলে শারীরিক নির্যাতনও করা হত বলে অভিযোগ। এই কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই পড়ুয়া। আর এর জেরেই এমন চরম পদক্ষেপ নেন তিনি।
কী জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে যে আগামী সপ্তাহে বৈঠক ডাকা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসুর বক্তব্য, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কতটা কী করার আছে, তা বলতে পারব না। যেহেতু যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা ছাত্রীর বাড়িতেই ঘটেছে।






