কলেজে অনুষ্ঠানের নামে ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দলেরই কর্মীদের, তুমুল হইচই কলেজে

কলেজে বার্ষিক অনুষ্ঠান অর্থাৎ সোশ্যাল হওয়ার কথা। সেই জন্য ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে। কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও সোশ্যাল আর হয়নি। কিন্তু সেই টাকা ঠিক আত্মসাৎ করে ফেলেছেন ওই নেতা। আর এই নিয়ে কলেজে তুমুল হইচই পড়ল।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

জানা গিয়েছে, আনন্দমোহন কলেজে সোশ্যাল হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিবি নির্বাচিত বিবেক সিং নামে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে। ইউনিয়নের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকায় সেই অনুষ্ঠানের জন্য টাকা বিবেকের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছিল। কিন্তু এক বছর হয়ে গিয়েছে, কলেজ সোশ্যাল আর হয়নি। সোশ্যালের সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা।

এরপরই বিক্ষোভ দেখায় কলেজের পড়ুয়ারা। ঘেরাও করা হয় কলেজের অধ্যক্ষের ঘর। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের হাতে ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পতাকা। এই ঘটনার পিছনেকী তবে ছাত্র সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই রয়েছে? এমনটাই উঠছে প্রশ্ন।

এই নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার মাইতি কোনও মন্তব্য করতে চান নি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপে বিবেকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি সোশ্যাল হতে পারে কলেজে। এই নিয়ে বিবেকের বিরুদ্ধে থানাতেও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে খবর। ঠিক হয়েছে, ফাইন্যান্স কমিটি আপাতত এই টাকার দেখভাল করবে।    

কী জানাচ্ছে কলেজের পড়ুয়ারা?

এই বিষয়ে এক ছাত্র জানান, “আমরা যখন কলেজে ভর্তি হই তারপর আমরা এইসব ঘটনা জানতে পেরেছি। সোশ্যালের নামে এপ্রিল মাসে ওরা ৪ লক্ষ টাকা তোলে। তুলছে প্রধানত বিবেক সিং। ও কিন্তু পাস আউট। বহিরাগত। এখন কলেজের সঙ্গে ওর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে যখন টাকাটা তোলে তখন ও শেষ সেমেস্টারে পড়ে। ইউনিয়নের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। তখনই চার লক্ষ টাকা তোলে। কিন্তু তারপর এক বছর কেটে গেলেও ওরা কোনও অনুষ্ঠান করেনি।

ওই ছাত্রের কথায়, “ওদের কারা দায়িত্ব দিয়েছিল আমরা জানি না। ওরা প্রিন্সিপালের সঙ্গে বসেছিল। এখন প্রিন্সিপাল বলছেন এটা আমার একার নয়, অনেকে ছিল। মিটিং করে কথা বলে তারপর টাকা দিয়েছি বলে উনি জানাচ্ছেন। কিন্তু, অনুষ্ঠান না হওয়ায় বারবার চিঠি দেওয়া হলেও ওরা কোনও জবাব দেয়নি। একদিনে আগে আমরা জানতে পারি ওরা সিদ্ধান্ত নেয় ওরা অনুষ্ঠান করবে না। টাকা তো আমাদের। ওই টাকাটা আমাদের কাজে লাগা উচিত। ওই টাকা ওরা নেবে কেন? এটাই আমাদের প্রশ্ন। আমরা জানি বিবেক ওর পার্সোনাল অ্য়াকাউন্টে টাকাটা নিয়েছে”।

RELATED Articles