আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা বাংলা উত্তাল। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রতিবাদ গিরে উঠেছে ইকে দিকে। রাস্তায় নেমেছেন সকলে। আর এমন আবহে সেই আর জি কর কাণ্ডের ছায়াই দেখা গেল মালদহে। সেখানে মেডিক্যাল কলেজে রহস্যজনক মৃত্যু হল পড়ুয়ার। এই ঘটনায় অভিযোগই নিতে নারাজ পুলিশ। এমনকি, সংবাদমাধ্যমে মুখ না খোলার চাপ পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের, এমনটাই জানাল মৃত ছাত্রের পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের জাকির হোসেন ইনস্টিটিউট অফ ফার্মেসিতে। এই কলেজের মালিক জঙ্গিপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেনের। মৃত ওই পড়ুয়ার নাম তৌহিদ করিম। মালদহের ইংরেজবাজার থানার যদুপুরের বাসিন্দা ওই পড়ুয়া। বাবা পেশায় গাড়ি চালক।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর বেশ মোটা টাকা দিয়েই তৌহিদকে জাকির হোসেন ইনস্টিটিউট অফ ফার্মেসিতে ভর্তি করেন বাবা। অভিযোগ, ভর্তির কিছুমাস পরই র্যাগিংয়ের কথা বলেছিল ওই পড়ুয়া। ছেলেকে ভেঙে পড়তে দেখে মা-বাবা অনেক বুঝিয়েছিলেন তাঁকে। তারপরও কলেজের হোস্টেলেই ছিলেন ওই পড়ুয়া। কিন্তু এক বছর না কাটতেই হোস্টেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগের দিনই মায়ের কাছে নানান সামগ্রী চেয়ে পাঠিয়েছিলেন ওই পড়ুয়া। পরের দিন তাঁর বাবা সেই সামগ্রী নিয়ে হোস্টেলে গেলে জানতে পারেন তাঁর ছেলে আর নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ছেলের মৃত্যুর কথা তাদের জানায় নি বলে অভিযোগ পরিবারের। বাবার সন্দেহ, তাঁর ছেলের অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হয় তৌহিদের ঝুলন্ত দেহ। তাঁর সারা শরীরে ক্ষত ছিল বলে অভিযোগ। কলেজ পরিবারকে জানায় তাদের ছেলে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু পরিবার তা মানতে নারাজ। পরিবারের তরফে পুলিশকে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। এমনকি, সংবাদমাধ্যমকেও না জানানোর কথা বলা হয় পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে। কয়েকজন ছাড়া হোস্টেলের বাকি ছাত্রদের সঙ্গে কথাও বলতে দেওয়া হয়নি মৃত পড়ুয়ার পরিবারকে, এমনটাই খবর।
এই ঘটনায় কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে যদুপুর গ্রাম। কলেজে তৌহিদের দেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও কেউ কোনও ব্যবস্থা কেন নেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন পরিবারকে তাদের ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়া হল না, এই বিষয়ে কোনও সদুত্তর দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে মুখে কুলুপ পুলিশেরও।





