রাজনৈতিক কারণে বাংলার ৭০ লক্ষের বেশি কৃষককে কেন্দ্রের সাহায্যে বঞ্চিত করছে মমতা, কটাক্ষ মোদীর

আগামী নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে বললেই চলে। দিনের পর দিনের শাসকদল ও বিরোধী দলের সংঘাতে তা বেশ স্পষ্ট। একে অপরকে দাগতে বাদ রাখছেন না কোনও দলই। নিজেদের মত করেই প্রচারে নেমেছে দুই দল। একদল নতুন ইতিহাস গড়ার ও অন্য দল নিজেদের ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজে উঠে পড়ে লেগেছে।

এদিকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন কৃষি আইন নিয়ে বিক্ষোভ। দিল্লিতে পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ নানা রাজ্যের কৃষকেরা শুরু করেছে আন্দোলন। এই অবস্থায় আজ, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকেই সরাসরি মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার কৃষকেরা কেন্দ্রের সুবিধা থেকে মমতার জন্যই বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিন বেশ হতাশা প্রকাশ করেই নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমার এটা বলতে আফশোষ হচ্ছে যে, গোটা দেশের কৃষকরা এই প্রকল্পে লাভ পাচ্ছেন। কিন্তু এক মাত্র পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লাখ কৃষক এই যোজনার লাভ পাচ্ছে না। ওনাদের কাছে এই টাকা পৌঁছাছে না। কারণ বাংলার সরকার নিজের রাজনৈতিক কারণে বাংলার কৃষকদের বঞ্চিত করছে। এই টাকাটা কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারই দিচ্ছে। রাজ্য সরকার দিচ্ছে না। তারপরেই কৃষকদের কাছে টাকা পাচ্ছে না। কয়েকদন কৃষক চিঠিও লিখেছেন। ওই কৃষকদেরও মান্যতা দেওয়া হয় না। এখন পর্যন্ত প্রচুর কৃষক অনলাইনে আবেদন  করেছেন এই যোজনার জন্য, কিন্তু রাজ্য সরকার সেগুলি সব আটকে বসে রয়েছে”।

এদিন রাজ্য সরকারের সঙ্গে বামেদেরও একহাত নেন মোদী। বামেদের কটাক্ষ করে বলেন, “আমি দেশবাসীর সামনে অনেক কষ্ট করে বলছি, যারা ৩০ বছর বাংলা রাজ করেছে। একটা অন্য বিচারধারা এনে বাংলাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসে রেখে দিয়েছিল ওরা। গোটা দেশ সেটা জানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ১৫ বছরের ভাষণ শুনলে বোঝা যাবে যে ওই রাজনৈতিক বিচারধারা মানুষ বাংলাকে কীভাবে বরবাদ করে দিয়েছিল। ৩০ বছর শাসনে থেকে অনেক বড় সংগঠন আছে এদের। কিন্তু এই যোজনায় কৃষকরা ২ হাজার টাকা পান যেটা বর্তমান রাজ্য সরকার আটকে রেখেছে। সেই টাকা দেওয়ার জন্য ওই রাজনৈতিক দল কোনও আন্দোলনে করেনি। এখন এতো কথা বলছেন আপনারা, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কৃষাণ যোজনার টাকা আটকে রাখার জন্য কেন আন্দোলন করেননি। কেন আওয়াজ তোলেননি। আর আপনারা ওখান থেকে উঠে পাঞ্জাব চলে এসেছেন”।

এরপরই মমতাকে সরাসরি দেগে প্রধানমন্ত্রীর হুংকার, “নিজের রাজ্যে কৃষকদের টাকা আটকে দিয়েছে। সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা পঞ্জাবে এসে পশ্চিমবঙ্গের যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে সেই বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে। দেশের জনতা কী এগুলো বুঝতে পারছে না। বিরোধিরা কেন আজ এই বিষয়ে কোনও কথা বলছে না”।

RELATED Articles