এবার পানীয় জলেও লাগল দুর্নীতির আঁচ! পুরসভার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ তুললেন এলাকাবাসীরা, বিক্ষোভ নবদ্বীপে

নানান দুর্নীতির জেরে এই মুহূর্তে বিদ্ধ রাজ্য সরকার। নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার আবাস দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল গোটা রাজ্য। এসবের মধ্যেই সামনে এল আরও এক দুর্নীতির অভিযোগ। এবার নবদ্বীপের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেঘড়িপাড়ার পুরসভার বিরুদ্ধে জল প্রকল্পে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল।

পানীয় জলের কানেকশন যদি নিতে হয়, তাহলে প্রশাসনকে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। এমনই অভিযোগ উঠেছে নবদ্বীপ থেকে। প্রত্যেক বাড়িতে জলের কানেকশন নেওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা দিতে হবে, আর তা না হলে জলের কানেকশন কেটে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুললেন এলাকাবাসীরা। আর স্থানীয় কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার বিরুদ্ধে পানীয় জলের ওপর শুল্ক নেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, “আমাদের প্রত্যেকের থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও লাইন দেয়নি, বলেছে তিনহাজার টাকা করে দিতে হবে”।

অন্য এক বাসিন্দা জানান, “জলের লাইন বসানোর জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি দিতে পারিনি বলে ২৩ ডিসেম্বর লাইন বসিয়ে ৩১ ডিসেম্বর খুলে নিয়ে চলে যায়”।

বলে রাখা ভালো, ২০২১ সালে নবদ্বীপে এক সভা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ভারতের প্রায় সব জায়গায় জলের উপর ট্যাক্স নেওয়া হয়। আমি বলেছিলাম জলের আর এক নাম জীবন। তাই জলের উপর ট্যাক্স নেওয়া যাবে না। এর জন্য কেন্দ্র আমাদের অনেক প্রজেক্ট আটকে দিয়েছে। আমাকে বলল, জলের উপর ট্যাক্স না নিলে বিশ্বব্যাঙ্ক বলেছে টাকা দেবে না। আমি বললাম ওদের টাকা ওরাই ঠিক করুক কোথায় দেবে। তবে ওদের কথা শুনে আমি মানুষের উপর ট্যাক্সের বোঝা বাড়াতে পারব না। তাতে আমার হলে হবে, না হলে না হবে। আমরা নিজেরা তৈরি করব”।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতিকে উপেক্ষা করেই এলাকায় চলছে দুর্নীতি। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পারুল দেবনাথ বলেন, “আমাদের পুরসভায় নিয়ম আছে সেই কারণে ৩০০০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবাই দিচ্ছে সেই টাকা। পানীয় জলের কানেকশন দেওয়ার জন্য নয়”। এই বিষয়ে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এই ইস্যু নিয়ে সিপিএম নেতা সৌমেন অধিকারী বলেন, “প্রশাসকরা মানুষের কাছে যে কর সংগ্রহ করছে তা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে”।  অন্যদিকে, বিজেপি সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “এখন সাধারণ মানুষ ভয় কাটিয়ে বলছেন। সেই কারণে সব কিছু সামনে আসছে”।

RELATED Articles