সোফায় বসে খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক। তৃণমূলের লোগো দেওয়া ব্যাকড্রপ। বিধায়কের কানে মোবাইল। ওই সোফাতেই বসে তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি। বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের এমন ছবিই গতকাল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করে নি খবর ২৪x৭। যা নিয়ে এখন বঙ্গ রাজনীতি উত্তাল। ফের তুঙ্গে হিরণের দলবদলের জল্পনা। তবে কী সত্যিই হিরণের তৃণমূলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র? সেই আলোচনাই চলছে চারিদিকে।
খড়গপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের দ্বন্দ্ব সকলেরই জানা। কোনও দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায় না। দিলীপ ঘোষ কোনও বৈঠকে তাঁকে ডাকেন না, এমনটাই অভিযোগ হিরণের। আবার পালটা একই অভিযোগ করেন দিলীপবাবুও। এই অভিযোগের মাঝেই বর্তমানে হিরণের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
শোনা গিয়েছে, খুব তাড়াতাড়িই হয়ত শিবির বদলাতে পারেন হিরণ। ফের তৃণমূলেই ফিরতে পারেন তিনি। বলে রাখি, দিনকয়েক আগেই আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছিলেন ‘একবার দরজা খুললে’ তৃণমূলে যোগ দেবেন বহু বিজেপি নেতা-কর্মী। সেই সময় কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল সেই তালিকায় রয়েছেন হিরণ। এমনকি দুই বিজেপি বিধায়ক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রীটের অফিসে দেখা করতে গিয়েছেন বলেও শোনা গিয়েছিল। এও গুঞ্জন উঠেছিল যে তাদের মধ্যে একজন নাকি পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন তারকা বিধায়ক। যদিও সেকথা স্বীকার করেননি হিরণ।
এসবের মধ্যেই গতকাল সামনে এসেছে হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও অজিত মাইতির এক ফ্রেমে থাকা একটি ছবি। তা দেখে অনেকের মনেই ধারণা জন্মেছে যে হিরণ হয়ত ফের তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। এই নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় দুর্গাপুরের বিজেপির কার্যকারিণী বৈঠকে। হিরণের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব ভিডিও কলে কথা বলেন বলেও জানা যায়।
এই ছবি নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের দাবী ছবিটি বহু পুরনো তিনি বলেন, “গ্রামে ঢুকতে পারছে না দিদির মেঘদূতেরা। নিয়োগ বন্ধ। এসব নিয়ে কেউ আলোচনা করছে না। কোথায় কে সোফায় বসে আরাম করছে, তা নিয়ে আমরা ভাবছি না”। কিন্তু বঙ্গ বিজেপি কার্যকারিণী বৈঠকে হিরণ কেন নেই? তাহলে কী দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে? এর জবাবে শমীক ভট্টাচার্য জানান যে আজ, শনিবার হিরণ বিদেশ যাচ্ছেন। সেই কারণে দু’দিনের কার্যকারিণী বৈঠকে তাঁর পক্ষে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। তবে সত্যিই হিরণ দলবদল করছেন কী না, তা নিয়ে কিন্তু মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই।





