একটা চাকরি—তা সে শিক্ষকতার হোক বা অন্য কোনও সরকারি ক্ষেত্র—আজকের দিনে মধ্যবিত্তের কাছে স্বপ্ন। বছরের পর বছর পড়াশোনা, কোচিং ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব কিছুর শেষে যখন নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়, তখন হতাশা চরমে পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গে SSC নিয়োগ নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে যে টানাপোড়েন চলছে, তা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখা যায় না। এতদিন পর ফের একবার নতুন নিয়োগবিধি সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষিত বেকারদের মনে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরছে ভেবে যাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য ফের আশঙ্কার মেঘ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই SSC নতুন নিয়োগের বিধি প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেই বিধি প্রকাশের পরই উঠছে প্রশ্ন—এই প্রক্রিয়া আদৌ টিকবে তো? পুরনো বিতর্কিত প্যানেল থেকে নিয়োগ নয়, বরং নতুনভাবে সব প্রক্রিয়া শুরু হলেও সেই নতুন প্রক্রিয়াই যদি আবার আইনি জটিলতায় পড়ে, তাহলে তো পুরোটাই বৃথা পরিশ্রম!
নতুন বিধিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু বড়সড় পরিবর্তন। ২০১৬ সালের নিয়োগে যেখানে লিখিত পরীক্ষা ছিল ৫৫ নম্বরের, এবার তা বাড়িয়ে ৬০ নম্বর করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য বরাদ্দ নম্বর কমিয়ে করা হয়েছে ১০। এছাড়াও পার্সোনালিটি টেস্টের বদলে এবার ৩০ নম্বর ভাগ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউ, অভিজ্ঞতা এবং পড়ানোর দক্ষতার ওপর। এই তিনটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
নিয়োগে পরিবর্তিত বিধিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুসারে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের নিয়মেই নিয়োগ চালাতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামান্য বিচ্যুতিও হলে আদালত পুরো নিয়োগ বাতিল করে দিতে পারে। ফলে বর্তমানে যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, সেটিও আইনি জটিলতায় পড়ে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ SSC Protest: আন্দোলনে পুলিশের কড়া বার্তা! শিয়ালদহ থেকে গ্রেফতার হলেন বহু চাকরিহারা শিক্ষক!
বিকাশরঞ্জনের আরও দাবি, ২০১৬ সালের নিয়োগে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা রাজ্য সরকারের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সেই চাকরি যাঁরা হারিয়েছেন, তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আগে নতুন নিয়োগ করা আইনত অবৈধ। ফলে নতুন পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ফের অনিশ্চয়তার মুখে। আদালতে এই নতুন বিধি ঘিরে চ্যালেঞ্জ উঠতেই প্রশ্ন—আবার কি বন্ধ হয়ে যাবে নিয়োগ? পরিশেষে একটাই কথা, চাকরি প্রার্থীদের স্বপ্ন ও পরিশ্রম যেন আবার আদালতের বারান্দায় না আটকে পড়ে।





