পড়ানোর নামে মগজ ধোলাই করে পড়ুয়াদের জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখাতেন মুশির্দাবাদের মাদ্রাসা শিক্ষক! গ্রেফতার করল NIA

পশ্চিমবঙ্গে ধীরে ধীরে আল-কায়েদার বাড়বাড়ন্ত চিন্তায় ফেলেছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে সে পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক! আব্দুল মোমিন মন্ডল নামে রাইপুর দারুর হুদা ইসলামিয়া মাদ্রাসার এই শিক্ষক দলের রিক্রুটার হিসেবে কাজ করতো!

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে যে আব্দুল মোমিন মন্ডল মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, মালদা থেকে বেশ কিছু ছেলেকে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করেছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত আব্দুল। ঠিক কতজনকে আব্দুল নিয়োগ করেছিল তা এখন খতিয়ে দেখা হবে।ফেসবুকে আব্দুল মোমিন মন্ডলের একটি প্রোফাইল পাওয়া গিয়েছে সেটিও এনআইএ খতিয়ে দেখবে সেখান থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় কিনা।

https://twitter.com/NIA_India/status/1323229292268933121?s=20

কয়েকদিন আগেই আল-কায়েদা জড়িত সন্দেহে মোট এগারো জনকে গ্রেফতার করে এনআইএ তাদের মধ্যে আটজন মুর্শিদাবাদের এবং তিনজন কেরালার। এরপরই আবহাওয়ার আগাম খবর পেয়ে গতকাল মুর্শিদাবাদের রাণীনগর এলাকার নজরানা গ্রাম থেকে আব্দুল মোমিন মন্ডলকে (৩২) পাকড়াও করে এনআইএ।

বস্তুত মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় যে হঠাৎ করেই জঙ্গি যোগ বাড়ছে সে বিষয়ে বারংবার অভিযোগ জমা পড়েছিল এনআইএর কাছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে এই সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে বসে এনআইএ এবং তারপরেই গোয়েন্দারা সতর্ক হয়ে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিতে শুরু করেন। সেই সময় জানা যায় ১০ জনের বেশি একটি সদস্যের দল আল-কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এরপরেই বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয় এনআইএ এবং গ্রেফতার করা হয় অনেক জনকে।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে যে আব্দুল এর বিরুদ্ধে একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকে অংশগ্রহণ এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সেজে লোকজনকে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল তারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এবং এই কাজের জন্য সে যে অর্থ সঞ্চয় করছিল তাও জানা গিয়েছে। তার মোবাইল, ল্যাপটপ সমস্তকিছুই এনআইএ বাজেয়াপ্ত করেছে।

আজ তাকে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হলে এনআইএ তাকে নয়াদিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করার জন্য হেফাজতে নেবে বলে আবেদন করে। সেই আবেদন মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের মঞ্জুর করেছে।

একের পর এক জঙ্গি সন্দেহে ধৃত মানুষজনকে জেরা করছে এনআইএ এবং তারপরে উঠে আসছে বিস্ফোরক সমস্ত তথ্য। বাংলায় আইএসের যোগ ধীরে ধীরে অনেক দূর বিস্তৃত হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।এই জঙ্গিরা এনআইএর জালে ধরা পড়ার ফলে আইএসকে বাংলা থেকে নির্মূল করার পথ অনেক সহজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

RELATED Articles