পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ও হাহাকারের ছবিটা ফের স্পষ্ট করল একটি ঘটনা। চিকিৎসার জন্য যেতে হবে হাসপাতালে। শরীর এতটাই অসুস্থ যে আম্বুলেন্স ছাড়া গতি নেই। কিন্তু বিধি বাম। ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য টুকুও যে তার নেই। আর তাই বাধ্য হয়ে প্রায় শেষ সম্বল নিজের কানের দুল অ্যাম্বুলান্স চালকের হাতে ভাড়া হিসেবে তুলে দিয়ে হাসপাতালে গেলেন অসুস্থ মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। দিন দশেক ধরে জ্বরে ভুগছিলেন উত্তরশুড়ার বাসিন্দা ওই মহিলা। চিকিৎসক তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু হতদরিদ্র ওই পরিবারের কাছে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না।
পয়সা ছাড়া একটি কাজ না হওয়ায় সমাজে ভাড়া না পেলে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে গা ঝেড়ে ফেলে অ্যাম্বুলেন্সের চালক। হাসপাতালে না গেলে ওই মহিলাকে বাঁচানো দায়। তাই বাধ্য হয়েই একজোড়া কানের দুল অ্যাম্বুল্যান্স চালককের হাতে তুলে দেয় ওই হতদরিদ্র পরিবার। দুল বেচে চালক দু-হাজার টাকা দেন। তা থেকে এগারোশো টাকা অ্যাম্বুলেন্স এর ভাড়া মেটানো হয়। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতে সত্যতা স্বীকার করে নেয় অ্যাম্বুল্যান্স চালক। অমানবিকতায় নজির রাখায় কাছ থেকে বহিস্কৃত করা হয়েছে তাকে।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ঘটনা জানার পর অসুস্থ মহিলার কানের দুল ফেরতের ব্যবস্থা করেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।






