BigBreaking:মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে আগামীকাল রাজ্য পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

অবশেষে নড়ে বসল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ শুনে আগামীকাল রাজ্যে আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বসিরহাটে যাবেন তিনি। তারপর হেলিকপ্টারে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

গতকাল দুপুর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। ভেঙেছে ঘরবাড়ি, বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তা হয়েছে রুদ্ধ, জলের তলায় চলে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজ্য সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে মারা গিয়েছেন ৭২ জন। প্রায় ১২ ঘন্টা চুপ ছিল কেন্দ্রীয় শাসক দল। এত বড় বিপর্যয়েও কেন বিজেপি মুখ খুলছে না এই নিয়ে নেটিজেনরা তুলছিলেন প্রশ্ন। সকালে প্রধানমন্ত্রীর ট্যুইট এবং এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসার ঘোষণায় অক্সিজেন পেল বঙ্গ বিজেপি।

আগেই টুইটে রাজ্যের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার তিনি নিজে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন। আগামীকাল কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি বসিরহাট যাবেন তিনি। আকাশ পথেই আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপর দুপুর একটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী পৌঁছবেন ওড়িশার বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর পরিদর্শনে।

বৃহস্পতিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলব, একবার ভিজিট করে যান, দেখে যান কী ভয়াবহতা গেছে।’ সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার কী ক্ষতিপূরণ দেয় ‘তাও দেখব’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে সাহায্যের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। সেই মতো কেন্দ্রের কাছে ক্ষতিপূরণের তালিকা পাঠাবে তাঁর সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেও শনিবার আকাশ পথে দুই ২৪ পরগনার ক্ষয়ক্ষতি সার্ভে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও মৃতদের পরিবারের সদস্যদের আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে পরিদর্শনের আসার সিদ্ধান্তে হালে পানি পেয়েছে রাজ্য বিজেপি। বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণও শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর আগেই রাজ্য আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এতেই স্পষ্ট রাজ্য কতটা তৎপর। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি এদিন জানিয়েছেন আমফান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি জেলায় জেলায় সফরে যাবেন এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতারও বার্তা দিয়েছেন।
আমফানের বিধ্বংসী অভিঘাতে লন্ডভন্ড রাজ্য। ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলি। গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। গোটা রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে আমফানের তান্ডবে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু এলাকা। নেই বিদ্যুৎ, মোবাইল টাওয়ার। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে খোঁজ খবর নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

RELATED Articles

Leave a Comment