এবার গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গেই আসবে আটা, মধু, মুদির দোকানের মালও এবার পাবেন গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি ম্যানের কাছে

এক বড় চমক দিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি। এবার থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গেই মিলবে গৃহস্থালির নানান জিনিসও। এবার থেকে আপনার বাড়িতে যিনি গ্যাস সিলিন্ডার দিতে আসবেন, সেই ডেলিভারি ম্যানের থেকেই আপনি পেয়ে যাবেন আটা, মধু ও আরও নানান মুদির দোকানের জিনিসও।

কীভাবে সম্ভব এমন কাণ্ড?

আসলে সূত্রের খবর, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানিগুলির আইটিসি, ডাবরের মতো একাধিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এবার থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি ম্যানরা সেই সমস্ত সংস্থার নানান পণ্যও বিক্রি করবেন। রাষ্ট্রয়াত্ত্ব তেল কোম্পানিগুলির দাবী, এই চুক্তির ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল সংস্থাগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হবে। আর গ্যাস ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটার থেকে শুরু করে ডেলিভারি ম্যানরাও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবেন। 

গ্যাস ডিলারদের কী প্রতিক্রিয়া?

তেল সংস্থাগুলির আয় বাড়ানোর এমন পদ্ধতি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন গ্যাস ডিলার বা ডেলিভারি ম্যানরা। কলকাতার এক রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সংস্থার গ্যাস ডিলারের কথায়, “তেল সংস্থার এই চুক্তির ফলে, আর্থিকভাবে তেল সংস্থাগুলি লাভবান হবে কিন্তু ডিলার বা ডেলিভারি ম্যানদের বাড়তি আয় সেই ভাবে কিছু হবে না”।

এই বিষয়ে আবার অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার গ্যাস ডিলার বলেন, “যে পণ্যগুলি বিক্রির কথা বলা হচ্ছে তা একজন গ্রাহক খোলা বাজারে আরও কম দামে পাবেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন প্যাকেট আটা খোলাবাজারে যেভাবে বিক্রি হয় আমরা সেই দামে দিতে পারব না। আমরা প্যাকেটের গায়ে প্রিন্ট করা এমআরপি বা ন্যূনতম ক্ষুদ্র মূল্য যেটা লেখা থাকবে সেই দাম নেব। অন্যদিকে খোলা বাজারে দোকানদাররা এমআরপির থেকে কম নেন। কিন্তু আমাদের যে দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে এবং তারপর গ্যাস ডেলিভারি ম্যানকে তাদের কমিশন দিলে আমরা খুচরা খোলা বাজারে যে দামে এই পণ্য বিক্রি হয় সেই দামে দিতে পারব না। তার থেকে বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। ফলে গ্রাহক কেন আমাদের কাছ থেকে সেই পণ্য কিনবেন”?

গ্যাস ডিলাররা এও অভিযোগ করেছেন যে এমন সিদ্ধান্তে আর্থিক লাভ হবে না। বরং সেইসব সংস্থার পণ্য মজুত রাখতে তাদের উল্টে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আর গ্যাস ডেলিভারি ম্যানরা গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার পর বাড়তি অন্য পণ্য কীভাবে নেবেন, তা নিয়েও চিন্তা করা দরকার।

জানা গিয়েছে, গ্যাস ডিলাররা এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন উচ্চ কর্তৃপক্ষকে। এই সমস্যার কথা মেনেও নিয়েছেন রাজ্য গ্যাস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজন বিশ্বাস। এই চুক্তির ফলে যে আদতে গ্যাস ডিলারদের সমস্যাই বাড়বে, তা মেনে নিয়েছেন তিনি।

RELATED Articles