তিনি বেঁচে রয়েছেন, শারীরিকভাবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। দিব্যি হেঁটেচলে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তবুও তিনি মৃত। এবার নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে গলায় ‘আমি বেঁচে আছি’ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ঘুরলেন বৃদ্ধ।
কেন এমন অবস্থা তাঁর?
সরকারি আধিকারিকদের দয়ায় তিনি আজ বেঁচে থেকেও মৃত, এমনটাই জানান ওই বছর ৭০-এর বৃদ্ধ দীননাথ যাদব। গতকাল, রবিবার তাঁকে দেখা যায় আগ্রার জেলাশাসকের দফতরে গলায় ‘ম্যায় জিন্দা হু’ অর্থাৎ ‘আমি বেঁচে আছি’ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ঘুরতে।
কিন্তু এমন কেন করলেন বৃদ্ধ?
ওই বৃদ্ধ জানান, কয়েকজন সরকারি কর্মীর ষড়যন্ত্রে গত মার্চ থেকে নাকি তিনি সরকারি খাতাকলমে মৃত। জেলাশাসকের কাছে এই নিয়ে তথ্য জমা দেন তিনি। এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জেলাশাসকও বেশ অবাক হয়েছেন। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিডিও অফিসারদের থেকে জবাবদিহি চেয়েছেন জেলাশাসক।
ওই বৃদ্ধ দীননাথ যাদব জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। ক্ষেতে গিয়ে চাষবাসের কাজও করেন তিনি। বৃদ্ধ জানান, গত দু’বছর ধরে তিনি বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছিলেন। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে তা আচমকাই বন্ধ হয়ে যায়। এই নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিবের কাছে জানালে কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানান বৃদ্ধ। এরপরই তিনি জানতে পারেন যে সিডিও অফিসের কাগজে তাঁকে মৃত বলে দেগে দেওয়া হয়েছে।
দীননাথ যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পারেননি। সেই কারণে ‘আমি বেঁচে আছি’ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে সরাসরি দফতরে হাজির হন ওই বৃদ্ধ। এরপরই এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
এই ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বিডিও অনিরুধ সিং। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। এই বিষয়ে কিছু জানি না”। সত্তরোর্ধ্ব দীননাথ যাদব বলেছেন, “আমি বেঁচে উঠবই, পেনশনও পাবো আগের মতো”।





