আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের উপর নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে প্রতিবাদে নেমেছিলেন রাজ্যের মহিলারা। রাত দখলের কর্মসূচি পালন রা হয়। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যেই আর জি করে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর চালানো হয় জরুরি বিভাগে। তছনছ করা হয় সেই বিভাগ। এমন হামলার জেরে ভয়ে কাঁপছেন আর জি করের নার্সরা। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই নার্সদের পরিষেবা চালু করার হুমকি দিলেন অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল।
গতকাল মধ্যরাতে দুষ্কৃতীরা আর জি করে ঢুকে তাণ্ডবলীলার চালায়। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে নানান ওয়ার্ডে, নার্সিং স্টেশনে চলে ভাঙচুর। চেয়ার-টেবিল, ফ্যান, টিভি ভাঙচুর চলে। লক্ষ লক্ষ টাকার ওষুধ নষ্ট করেছে দুষ্কৃতীরা। হামলা চলেছে চিকিৎসক, এমনকি পুলিশের উপরেও। এসবের মাঝেই ফের উত্তেজনা ছড়াল আর জি করে।
আজ, বৃহস্পতিবার নার্সদের পরিষেবা চালু রাখার হুমকি দেন আর জি করে নয়া অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল। কিন্তু নার্সদের কথায়, এমন পরিস্থিতির মধ্যে পরিষেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। এই দাবীতে এদিন অধ্যক্ষ ও এমএসভিপি-কে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। আর জি করের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, তরুণীকে ধর্ষণ করে খুনের প্রতিবাদের অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।
হামলার বিষয়ে নার্সিং সুপার বলেন, “আমাদের সিকিউরিটি নেই। এই ইউনিফর্মটাই সিকিউরিটি”। কর্তব্যরত নার্সরা বলেন, “পুলিশ কাল আমায় নিজে বলেছেন দিদি আমাদের নর্মাল ড্রেস দিন। একটু লোকানোর জায়গা করে দিন। সিকিউরিটি গার্ডকে বলছে তালা লাগিয়ে দিন”।
অন্য এক নার্সের কথায়, “এটা পরিকল্পিত। পুরোটাই পরিকল্পিত। কালকে যে র্যালি বেরবে সেটা তো পুলিশ জানত। তারপরও এক্সট্রা পুলিশ কেন নেই। পুলিশ উল্টে আমাদের বলছে ভগবানের উপর ভরসা করুন”। আরও এক নার্স বললেন, “ওদের মুখ ঢাকা ছিল। একটা ঝামেলা তৈরি করা। ওরা বলে দিয়ে গেছে কালকে দেখে গেছে আজ আবার আসবে”। ফের হামলার ভয়ে কুঁকড়ে রয়েছেন নার্সরা। এই পরিস্থিতি কী স্বাভাবিক হবে? হলেও বা কবে? সেই উত্তরই চাইছেন আর জি করের নার্সরা!





