জেলার রাজনৈতিক আবহে যেন জমে উঠেছে উত্তেজনার পারদ। রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে, এমনকি বাজারের আনাচকানাচে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বীরভূমে তৃণমূলের কী ভবিষ্যৎ? রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষও বেশ দোটানার মধ্যে। একদিকে পুরনো নেতাদের প্রতি আবেগ, অন্যদিকে নতুন শক্তির খোঁজ। তাই সব মিলিয়ে রাজনীতির পালাবদলের কাহিনি এখন মানুষের নিত্যদিনের আলোচনা।
বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বীরভূম জেলায় যেন রাজনৈতিক সরগরমি তুঙ্গে। জেলাজুড়ে তৃণমূলের ভেতরে ভাঙনের সুর, নেতৃত্বে পরিবর্তন, আবার সেই পুরনো মুখের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সময়ে কে কার সঙ্গে থাকবেন, কে দল ছাড়বেন, কে নতুনভাবে নেতৃত্ব দেবেন—এইসব প্রশ্নে ভরা এক দোলাচলের রাজনীতি চলছে লালমাটির বুকে।
অনুব্রত মণ্ডলকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলার চেয়ারপার্সন করে ৯ জনের কোর কমিটি গঠন করে। কমিটিতে অনুব্রত মণ্ডল থাকলেও, বীরভূমের রাজনৈতিক মাঠে দলীয় ঐক্যের ছবি ধরা পড়ছে না। রবিবার কোর কমিটির বৈঠকে অনুব্রত ও অন্যান্য নেতারা একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিলেও, সোমবার বোলপুরের মিছিলে সেই বার্তা কার্যত উবে যায়। মিছিলে অনুব্রত প্রথম গাড়িতে থাকলেও, কাজল শেখসহ অন্য নেতারা পিছনের গাড়িতে ছিলেন। এমনকি অনুব্রত মঞ্চেও ওঠেননি।
সূত্র বলছে, বৈঠকের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রতকে ফোন করে রামপুরহাট, বোলপুর ও সিউড়িতে মিছিল করার নির্দেশ দেন। সেইমতো ২৫ মে রামপুরহাট, ২৬ মে বোলপুর ও ২৭ মে সিউড়িতে তিনটি বড় মিছিলের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এই মিছিলগুলিতেও তৃণমূলের ঐক্যের ছবি ফুটে ওঠেনি। বরং মিছিলের দিনেই দলের কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখকে দেখা যায়নি, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় ভিতরে ভিতরে অস্থিরতা রয়েইছে।
আরও পড়ুনঃ RG KAR : দেবাশিস হালদারের পোস্টিং ঘিরে বিতর্কের উত্তাপ, কাউন্সেলিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ!
একের পর এক ভাঙনের দাবি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তৃণমূল শিবিরে। রবিবার রামপুরহাটে অনুব্রতর মিছিলের ঠিক পরেই বেশ কয়েকটি পরিবার বিজেপিতে যোগ দেয়। সোমবার নলহাটি বিধানসভার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আরও ৫৫টি পরিবারের ২৭০ জন মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে বিজেপির দাবি। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। অনুব্রতকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানোর পর এ নিয়ে মোট তিনবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিল প্রায় ২৫০টি পরিবার। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ভাঙনের ধারায় বীরভূমে তৃণমূলের অস্তিত্ব কতটা বিপন্ন? উত্তর খুঁজছে গোটা রাজ্য।





