রাজনীতির নামেই যখন ধর্মের ব্যবহার শুরু হয়, তখন সাধারণ মানুষই হয়ে ওঠে তার বলি। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে একাধিক জায়গায় যে উত্তেজনার ছবি উঠে এসেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরছে মানুষের মনে। বাজারে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে — “আসলে দোষ কার? সাধারণ মানুষ তো শান্তিতেই থাকতে চায়!” এমন এক আবহে মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ সফরকে ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়েছে।
বাংলার ইতিহাসেই বহুবার দেখা গিয়েছে — বিভাজনের রাজনীতি কখনও বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। কিন্তু তবুও কোনও কোনও সময় কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তি ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা তোলার চেষ্টা করেন। মুর্শিদাবাদেও সম্প্রতি তেমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই দাবি স্থানীয়দের। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুর্শিদাবাদ সফরের শুরুতেই বহরমপুর জেলা শাসকের দফতরে বৈঠক সেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা দাঙ্গা করে, তারা দুষ্কৃতী। আমার কাছে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান — সব এক।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিছু বাইরের লোক ধর্মের নামে ‘বিধর্মী’ কথাবার্তা বলে মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে। ধর্মীয় নেতা সেজে কিছু লোক রাজনীতি করছে, যারা দাঙ্গা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গোটা জেলার মধ্যে শুধুমাত্র ২টি ওয়ার্ডেই গন্ডগোল হয়েছে। কিন্তু তা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। “আমি একদিন ধরে ক্রস চেক করিয়েছি। দু’-তিনজন লোক আছে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা বড় ধর্মীয় নেতা সেজেছে। বিজেপির সঙ্গে আর্থিক যোগ আছে বলেও আমার কাছে খবর আছে,” বলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Pakistan : বোমা নেই, রসদ নেই, মুখের হুংকারেই যুদ্ধ লড়ছে পাকিস্তান! প্রকাশ্যে লজ্জাজনক রিপোর্ট!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি — “টোটাল তথ্য আমার হাতে আসেনি। কিন্তু যেটুকু আছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে কারা জড়িত। পুরোটা হাতে এলেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নাম-ধাম-প্রমাণ সহ তুলে ধরব।” অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা — বাংলার মাটিতে দাঙ্গা বরদাস্ত নয়, আর ধর্মের নামে বিভাজনমূলক রাজনীতিও চলবে না।





