বাংলাদেশের(Bangladesh) প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। একের পর এক বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার অভিযোগ উঠছে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে। বিশেষত যাঁরা হিন্দু সমাজের পক্ষে কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ও গ্রেফতার বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম আবার সামনে চলে আসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে জনমানসে।
সম্প্রতি হাইকোর্টের জামিন আদেশে অনেকেই ভেবেছিলেন, অবশেষে মুক্তি মিলবে চিন্ময় প্রভুর। তাঁর অনুসারীরা, সংগঠন, এমনকি সাধারণ নাগরিকরাও আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিল প্রশাসন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, “এতদিন পরে জামিন পেলেন, আবার নতুন মামলা! এটা কি পরিকল্পিত নয়?” প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। প্রায় ছয় মাস জেলে কাটানোর পর ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উল্লাসে ফেটে পড়েছিল তাঁর সমর্থকরা। তবে জামিনের পরও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেননি এই হিন্দু সন্ন্যাসী। চট্টগ্রামের আদালতে একটি পুরনো মামলার সূত্র টেনে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ-প্রশাসন।
জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণর জামিন শুনানির দিন চট্টগ্রাম আদালতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেই সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সইফুল ইসলাম আলিফ নামের এক তরুণ আইনজীবীর। আহত হন আরও অন্তত ২০ জন। এই ঘটনার তদন্তে নতুন করে চিন্ময় দাসের নাম সামনে আসে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এরপরই সইফুল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানানো হয় আদালতে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : ধর্ম নয়, লুকোনো এজেন্ডা! বহিরাগত ধর্মগুরুর হাতেই দাঙ্গার ছক? বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর!
আজ সোমবার চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতে পুলিশের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক ফের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। সেইসঙ্গে হাইকোর্টের জামিন স্থগিতের আবেদনও জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ফলে বর্তমানে মুক্তির কোনো আশাই নেই বলেই মনে করছেন আইনি মহলের অনেকে। প্রশ্ন উঠছে—যখন চিন্ময় মাসের পর মাস জেলে ছিলেন, তখন কেন এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি? হাইকোর্টে জামিনের পরই কেন এত তৎপর প্রশাসন? একের পর এক মামলার মাঝে পড়ে কার্যত মুক্তির পথ বন্ধ হয়ে গেল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের।





