আজ বিধানসভায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাজেট পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন নেপালি, হিন্দি, উর্দু, কামতাপুরী, কুর্মালি ভাষার জন্য ১০০টি নতুন স্কুল করা হবে। এর জন্য ৩০০ প্যারা টিচার নিয়োগ করা হবে। এই বাবদ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, চা-বাগান এলাকায় আগামী ৫ বছরে ১০০টি সাদরি ভাষার বিদ্যালয় স্থাপন করার প্রস্তাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য ৩০০ জন প্যারা টিচার নিয়োগ করা হবে। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
আর যখন পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়ে তিনি এই জাতীয় ঘোষণা করছেন তখনই শহরের অন্য প্রান্তে চলছে ধুন্ধুমার। পার্শ্ব শিক্ষকদের নবান্ন অভিযানে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার।নিজেদের একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন পার্শ্বশিক্ষক-শিক্ষিকারা। এরপরই পুলিশ তাঁদের সেই জায়গা থেকে সরাতে এলেই বাঁধে ঝামেলা।
নিজেদের সহ্যের সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন শিক্ষকরা। কিন্তু আন্দোলনরত পার্শ্বশিক্ষকদের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারেই আটকে দেয় পুলিস। এরপরই শুরু হয় দুই পক্ষে তুমুল ধস্তাধস্তি।
পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলা-পুলিশ নির্বিশেষে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের লাঠির আঘাতে জখম হয় বেশ কয়েকজন। সেইসঙ্গে পুলিশও বেশ কিছু আন্দোলনকারীকে আটক করে।
তবে আন্দোলনকারীদের দাবি তাঁরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানের পথেই হাঁটছিলেন, এমনকী অনুমতি দেওয়ার পরও তাঁদের আটকানো হয়। তাঁরা শুধুমাত্র দাবি-দাওয়ার ডেপুটেশন জমা দিতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি আজ নবান্ন অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাঁদের, সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে জমায়েত করে রানী রাসমনি রোডের দিকে এগোনোর অনুমতিও ছিল। তবে পুলিশ তাঁদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করায়। প্রায় তিন ঘণ্টা রাস্তা অবরোধের পর ধৈর্য হারিয়ে এগোনোর চেষ্টা করতেই ধুন্ধুমার বাধে। পুলিসের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও অভিযোগে অস্বীকার করেছে পুলিশ।
যাঁদের বিরুদ্ধে শিক্ষক পেটানোর অভিযোগ উঠল সেই বাংলার পুলিশ কি বলছে? তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভা চলার কারণে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের এগোতে দেওয়া সম্ভব নয়। এ দিকে ফের একজোট হয়ে অবস্থানে বসে গিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। জলকামান, ব্যারিকেড নিয়ে এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে RAF এবং কমব্যাট ফোর্সও। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। সবমিলিয়ে বোঝা মুশকিল শহরে পার্শ্বশিক্ষকরা আন্দোলন করছে না আতঙ্কবাদীরা ঢুকে পড়েছে! যা সামলাতে এই বিশাল ব্যবস্থা।





