বাবার নির্দেশ দৈববাণী! খুব চঞ্চল ৯ বছরের ছেলে, সাধুর নিদানে ছেলেকে দামোদরের পাড়ে পুঁতে দিলেন মা-বাবা

খুব চঞ্চল ছেলে। সেই কারণে সাধুবাবা নিদান দেন ছেলেকে অন্ধকার রাতে দামোদরের পাড়ে হাঁটু পর্যন্ত পুঁতে দিয়ে আসতে হবে। তাহলেই শান্ত হয়ে যাবে ছেলে। সাধুবাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকে তেমনই করে নাবালকের মা-বাবা। রাতে সত্যি সত্যিই ৯ বছরের ছেলেকে দামোদরের পাড়ে হাঁটু পর্যন্ত পুঁতে দিয়ে এলেন তারা। ভিলেজ পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার পেল ওই নাবালক। তাকে আপাতত সরকারি হোমে রাখা হয়েছে।

এমন হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। বর্তমানে ওই নাবালকের মা বাবা শ্রীঘরে। ওই সাধুবাবা যিনি অনন্তবাবা নামে পরিচিতি, তর খোঁজ করছে পুলিশ। নাবালকের বাবাকে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। বাকিদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এমন ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়েছে এলাকায়।

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নাবালকের বাড়ি নদিয়ার চাকদহের নরেন্দ্রপল্লি কদমতলায়। জানা গিয়েছে, ৯ বছরের শিশুটি বাড়িতে খুব দুষ্টুমি করে। সেই কারণে তাকে সুদর্শনপুরে এক সাধুবাবার কাছে নিয়ে আসে তার বাবা-মা। এর আগেও একবার শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই সাধু তাকে ভালো করে দিয়েছিল বলে তাদের বিশ্বাস। তাই এবার দুষ্টুমি বন্ধ করতে শিশুটিকে ফের সাধুবাবার কাছে নিয়ে যান তারা। সাধুবাবা নিদান দেন যে ওই শিশুকে রাতের অন্ধকারে কোনও নির্জন জায়গায় ছেড়ে আসতে হবে।

বাবার নির্দেশ যেন দৈববাণী। সেই নিদান মেনেই নিজেদের ছেলেকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দামোদরের পাড়ে হাঁটু পর্যন্ত পুঁতে দিয়ে ফের আশ্রমে চলে আসেন ওই নাবালকের মা-বাবা। ওই নির্জন জায়গায় একা একা ভয়ে কাঁপতে থাকে ওই শিশু। কান্না জুড়ে দেয় সে। সেই কান্না শুনে আশেপাশের লোকজন উদ্ধার করে শিশুটিকে। বাবা-মা তাকে ছেড়ে দিয়ে গেছে একথা শিশুটির থেকে জানার পরেই পুলিশ খবর দেন বাসিন্দারা।

রায়না থানার পুলিশ ওই শিশুকে নিয়ে আশ্রমে যায়। সেখানে ডাকাডাকি করলেও কেউ দরজা খোলে না। অনেকক্ষণ পর দরজা খোলা হলে ওই শিশুর মাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সাধুবাবার নিদান সম্পর্কে সব কথা জানা যায়। ওই শিশুর বাবা ও আশ্রমের অন্যান্যরা গা ঢাকা দিলেও তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়ে লোকেশন ট্র্যাক করে তাদের ধরে ফেলে পুলিশ। ওই শিশুকে আপাতত হোমে রাখার ব্যবস্থা করেছেন শিশুকল্যান সমিতির সদস্যরা।  

এই বিষয়ে জেলাশাসক পূর্ণেন্দুকুমার মাজি জানান, “আশ্রমের এক সাধুবাবার নির্দেশে তার বাবা-মা ৯ বছরের একটি শিশুকে কীভাবে দামোদরের চরে ওইভাবে রেখে এসেছে তা ভাবতেই অবাক লাগে। একটি বাচ্চা খুব চঞ্চল বলে এভাবে তাকে বালির মধ্যে রেখে চলে আসাটা অমানবিক। এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে”।

RELATED Articles