রাজ্যের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার বড়সড় রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল। যে ৬০৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে, তারা পাশই করেন নি বলে দাবী করা হয়েছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে। তদন্তকারীদের দাবী, এই ৬০৯ জন ফেল করা সত্ত্বেও তাদের র্যাঙ্ক পরিবর্তন করে তাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় এবার সরাসরি নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি যে সুপারিশ কমিটি তৈরি করেছিলেন, তাও সম্পূর্ণ বেআইনি, এমনটাই জানাল আদালত।
আজ, সোমবার ভরা এজলাসেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ধরেই রিপোর্টটি পড়া হয়। সেই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। আদালতে এই রিপোর্টটি পেশ করে আর কে বাগের নেতৃত্ব গঠিত তদন্ত কমিটি।
এই রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে যে এসএসসি গ্রুপ ডি-র ক্ষেত্রে যে ৬০৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে, তা সম্পুর্ণ ভুয়ো। কমিটির আরও দাবী, ২০১৯ সালের ১লা নভেম্বর সুপারিশ কমিটি তৈরি হয়। ৬০৯ জনের এই প্যানেল তৈরির পিছনে হাত তাদেরই।
এদিনের রিপোর্টে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে শর্মিলা মিত্র, সুবিলেশ ভট্টাচার্য, মহুয়া মৈত্র, অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের নাম। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
এই রিপোর্টে অভিযোগ রয়েছে এসএসসি প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহার নাম। আদালতের অভিযোগ, শান্তিপ্রসাদ সিনহা ও সমরজিৎ আচার্য ভুয়ো সুপারিশ পত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে ভুয়ো নথি তৈরি করা, সবটাই করেছেন। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানা যাচ্ছে।
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ আগে থেকেই বারবার শান্তিপ্রসাদের দিকে আঙুল তুলেছে। কিন্তু বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শান্তিপ্রসাদ। এবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে সিবিআই চাইলে শান্তিপ্রসাদকে গ্রেফতার করতে পারে। এই রিপোর্টে এও দেখা গিয়েছে যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বাকি আধিকারিকরা যে বক্তব্য জানিয়েছিলেন, তাতেও অসঙ্গতি রয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত সরাসরি নাম না জড়ালেও, এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সরাসরিই নাম জড়াল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর নির্দেশেই নিয়োগের আগে সুপারিশ কমিটি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। আদালতের কথায়, এই সুপারিশ কমিটি পুরোটাই বেআইনি। আদালত এও জানায় যে এভাবে কোনওভাবেই সুপারিশ কমিটি গঠন করা যায় না।





