রাজ্য

শুধু মন্ত্রিত্বই নয়, এবার তৃণমূলেরও সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে, কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা অভিষেকের

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির (SSC Scam Case) জেরে ইডি গ্রেফতার করেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee)। গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও (Arpita Mukherjee)। অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ইডির জেরায় অর্পিতা স্বীকার করেছেন যে ওই টাকা আসলে পার্থরই। তাঁর কর্মীরাই টাকা রেখে যেত ফ্ল্যাটে।

আজ, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকেই ঘোষণা করা হয় যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অপসারণ করা হবে। তিন দফতরের মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণ করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এরপরই ছিল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক। এবার সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে তৃণমূলেরও সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে পার্থকে। যতদিন তদন্ত চলবে, ততদিন দলের তরফে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হল বলে ঘোষণা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মহাসচিব পদে রয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে আজ সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে জানান যে দলের মহাসচিব, তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার সম্পাদক, শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্য সহ দলের পাঁচ পদ থেকে অপসারিত করা হচ্ছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটি দল যা তৈরি হয়েছিল মানুষের জন্য। অনেক লড়াই করে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। তৃতীয়বার মানুষের আর্শীবাদ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে দল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অবিচার হলে কোনওমতেই বরদাস্ত করবে না দল। কেউ যদি সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে অর্থ রোজগারের চেষ্টা করে তাহলে তাঁকে বিন্দুমাত্র সাহায্য করবে না দল, একথা স্পষ্ট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”।

এখানেই শেষ নয়। এদিন অভিষেক আরও বলেন, “যাঁর বাড়ি থেকে অর্থ উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূলের কেউ নন। তাহলে অনেকে প্রশ্ন করবেন পুজোর সময় এক ফ্রেমে কীভাবে উপস্থিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? পুজোর সময় ২০০ লোক থাকে। সামনে কে থাকবে কে ছবি নেবে তা তাঁর পক্ষে দেখা সম্ভব নয়”। তাঁর সংযোজন, “যিনি দোষী তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি”।

Back to top button
%d bloggers like this: