হাসপাতালে পৌঁছেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অর্পিতা, বহিষ্কারের পর পার্থ মুখ খুলে বললেন ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার’, কার দিকে ইঙ্গিত প্রাক্তন মন্ত্রীর?

পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে (Arpita Mukherjee) ইডি (Enforcement Directorate) গ্রেফতার করেছে ৭ দিন হয়ে গেল। আজ শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাদের দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয় ইএসআই-তে (ESI)। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পরই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অর্পিতা। গাড়ি থেকে নামতেই চান নি তিনি। অন্যদিকে, আবার হাসপাতালে প্রবেশের সময় পার্থ মুখ খুলে বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার”।

আজ, শুক্রবার বেলা প্রায় সাড়ে ১২ টা নাগাদ জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। প্রথমে অর্পিতাকে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়। খুবই বিধ্বস্ত লাগছিল তাঁকে দেখতে। তবে গাড়ি থেকে কিছুতেই নামতে চাননি তিনি। গাড়িতে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অর্পিতা। তবুও ইডির দুই মহিলা আধিকারিক অর্পিতাকে নামানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় গাড়ি থেকে পড়ে যান তিনি। কোনওক্রমে ওঠানো হয় তাঁকে। হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় অর্পিতাকে।

এরপরই গাড়ি থেকে নামানো হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেই সময় এতদিনে প্রথমবার সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন তিনি। বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। যারা ষড়যন্ত্র করেছে, জানতে পারবেন”।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারির পর ৭ দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এর আগে একবারও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেন নি তিনি। আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টাও করেন নি পার্থবাবু। এতদিন নীরবই ছিলেন তিনি। তবে আজ মুখ খুললেন তিনি। তবে তাঁর এই ইঙ্গিত ঠিক কার বা কাদের দিকে, সেই নিয়েই এখন উঠছে প্রশ্ন।

এর আগে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজেই চুপ। উনি নিজেই কোনও প্রতিবাদ করছেন না”। এরই মধ্যে গতকাল, বৃহস্পতিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যের তিনটি দফতরের মন্ত্রিত্ব ও তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এর পরদিনই মুখ খুললেন পার্থ যা নিয়ে জল্পনা তো বেড়েছেই।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এই কথাটা বলতে ছ’দিন সময় কেন লাগল? উনি এতদিন কেন কিছু বললেন না। গ্রেফতারির পরই বলা উচিত ছিল। এবার কিছু বললে তা আইনি পথে বলতে হবে”।

RELATED Articles