নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের(Partha Chatterjee) নাম উঠে আসার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ২০২২ সালে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা এবং বহুমূল্য গয়না বাজেয়াপ্ত করে ইডি। নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্র পাওয়ার পরই গ্রেপ্তার হন পার্থ। দীর্ঘ তদন্তে একাধিকবার তাঁর বাড়িতে চলে তল্লাশি। যদিও বারবার নিজের নির্দোষিতা দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেনি। এই পরিস্থিতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে থাকাকালীন একাধিকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারির পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তদন্তের শুরুতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে। সেখানেও নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। জেলে থাকাকালীন বিভিন্ন সময় শ্বাসকষ্ট, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্যহীনতার মতো শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। একাধিকবার আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখান তিনি। তবে, বেশিরভাগ সময় সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।
সম্প্রতি ২০ জানুয়ারি পার্থ চট্টোপাধ্যায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। তখনই তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেলের চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর কিডনি এবং ফুসফুসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি কিছুটা স্থিতিশীল ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সূত্রের খবর, চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিসিইউতে স্থানান্তর করেন। তাঁর কিডনি এবং ফুসফুসের সমস্যা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে চিকিৎসকরা বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় শীতের বিরতি! উত্তরবঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনা! রয়েছে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস
এই মুহূর্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সূত্রের দাবি, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে আইসিসিইউতে রেখে চিকিৎসা করা হলেও সমস্যা কমছে না। তাঁর বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। এখনো জেলের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।





