করোনাকালে কোনও রোগীকে তিনি ফেরান নি। অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন চিকিৎসক গৌরব রায়। কিন্তু স্থানীয়দের আতঙ্কে তিনিই ঘরছাড়া। খবর পেয়েই ছুটে এলেন ওই চিকিৎসকের উপকার পাওয়া রোগীরাই। চিকিৎসককে বাড়ি ফেরাতে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরসদের সঙ্গেই হাত মেলালেন ওই রোগীরা।
গত ১৪ই এপ্রিলের পর থেকেই কার্যত ঘরছাড়া ডঃ গৌরব রায়। নিমতা বাজার এলাকার বাসিন্দা পাপ্পু কুণ্ডুর মৃত্যুর পর ওই চিকিৎসকের বাড়ি ভাঙচুর করে স্থানীয়রা। পাপ্পুর বয়স ২৫ বছর। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাপ্পুর বুকে ব্যাথা হলে চিকিৎসক গৌরব রায়কে ডেকেও পাওয়া যায়নি। এর জেরে চিকিৎসকের পরিবারকে মারধর করা হয়। আতঙ্কের জেরে অন্য এক চিকিৎসকের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন ডঃ গৌরব রায়।
এদিন তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস। নিমতা থানায় ডেপুটেশন জমা দেয় তারা। সেদিন যারা গৌরব রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করেছিল তাদের গ্রেফতারির দাবী তোলা হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা. কৌশিক চাকী জানান যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তাদের ছবিও তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ফেরপুলিশ চিকিৎসায় গাফিলতির মামলা শুরু করায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের চিকিৎসকরা। ডা. কৌশিক চাকীর প্রশ্ন তুলেছেন, “যিনি রোগীর কাছেই যাননি। তিনি কিভাবে গাফিলতি করলেন”?
ডঃ গৌরব রায় বাড়ি ফেরার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান ‘প্রটেক্ট দ্য ওয়ারিয়ার’ দলের চিকিৎসক সদস্যরা। চিকিৎসক গৌরব রায়ের বাড়িতে যে সমস্ত দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে, তাদের গ্রেফতারির দাবী তোলেন তারা। তাছাড়া, গৌরব রায়ের বিরুদ্ধে যে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে, তা যাতে শীঘ্রই তুলে নেওয়া হয়, তেমন দাবীও জানান ‘প্রটেক্ট দ্য ওয়ারিয়ার’ দলের চিকিৎসক সদস্যরা।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন হঠাৎই বুকের ব্যাথা শুরু হয় পাপ্পুর। এদিন চিকিৎসকরা জানান যে ঘটনার শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে ওই যুবক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হত। কিন্তু তা না করে অযথা চিকিৎসককে কেন বাড়িতে ডাকা হল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এই নিয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ৩০৪এ ধারায় পুলিশ মামলা রুজু করেছে। আর এই নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ চিকিৎসক মহল। এদিন ডঃ গৌরব রায়ের বাড়ি যান উত্তর দমদমের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস। চিকিৎসকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।






