চরম গাফিলতির অভিযোগ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এক দুর্ঘটনায় কাটা পড়েছিল এক যুবকের হাত। হাসপাতালের মধ্যেই সেই কাটা হাত মুখে নিয়ে ঘুরতে দেখা গেল এক কুকুরকে। হাসপাতাল চত্বরে এমন দৃশ্য দেখে রীতিমতো ভয়ে আঁতকে ওঠেন লোকজন।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল, রবিবার রাতে। এদিন রাত দশটা নাগাদ শিলিগুড়ির টি পার্ক এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন দুর্গাদাস কলোনির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার নামে এক যুবক। তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ওই যুবকের চিকিৎসা শুরু হয়।
হাসপাতালের তরফে জানানো হয় যে ওই যুবকের একটি হাত কাটা পড়েছে। সেই হাতের কাটা অংশটি রাখা ছিল ওই যুবকের বেডের পাশেই। আজ, সোমবার হাতের সেই কাটা অংশকেই মুখে নিয়ে হাসপাতালে ঘুরতে দেখা গেল একটি কুকুরকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে তুমুল চাঞ্চয় ছড়ায়।
এই ঘটনার জেরে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠেছে যে যেখানে রোগীরা রয়েছেন, সেখানে কুকুর ঢুকে পড়ল কীভাবে? আর রোগীর সেই কাটা হাত তাঁর বেডের পাশে কেন রাখা হল, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এই বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগীর পরিবারের সদস্যরা। একজনের দাবী, “কাটা হাত জোড়া লাগবে, সেই আশাতেই আমরা নিয়ে এসেছিলাম হাতটি। কিন্তু তা তো হল না, উলটে সেই হাত চলে গেল কুকুরের মুখে”।
হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠেছে গাফিলতির অভিযোগ। ওয়ার্ডের ভেতর থেকে রোগীর কাটা হাত কীভাবে কুকুর নিয়ে যায়, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে রোগীর পরিজনদের তরফে। এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল সুপার বলেন, “অন্তর্তদন্ত চলছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারোর গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে”।





