মহা ফ্লপ ‘দুয়ারে ডাক্তার’ প্রকল্প! ঘণ্টার ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করলেন রোগীরা, দেখা নেই চিকিৎসকের, ক্ষোভ রোগী ও তাদের পরিজনদের

প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেল। কিন্তু তাও পৌঁছলেন না কলকাতার চিকিৎসকরা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেশ বিরক্ত হলেন রোগী ও তাদের পরিজনরা। আজ, বৃহস্পতিবার হুগলির গোঘাট এক নম্বর ব্লক ও খানাকুল এক নম্বর ব্লকে সূচনা হয় ‘দুয়ারে ডাক্তার’ কর্মসূচির। কিন্তু প্রথমদিনই বিশৃঙ্খলা।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করার পরও যখন চিকিৎসকরা এলেন না, তখন ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন রোগীর পরিজনরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। পরে জানানো হয় যে মাঝরাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য শিবিরে পৌঁছতে দেরি হয়। তবে এর জেরে বেশ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় গোঘাটের ‘দুয়ারে ডাক্তার’ কর্মসূচিতে।

এদিন বেলা বারোটা থেকে গোঘাটের এক নম্বর ব্লকে শিবির করে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেলা তিনটে পেরিয়ে গেলেও কোনও চিকিৎসক আসেন নি। আর এরপরই ক্ষোভ শুএরু হয়। হুগলির গোঘাটে স্বাস্থ্য শিবিরে মোট ১৪ জন চিকিৎসক হাজির থাকার কথা।

চিকিৎসা করানোর জন্য এদিন দূর-দূরান্ত থেকে সকালবেলাই হাজির হন রোগী ও তাদের পরিজনরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিন্তু অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষোভ দেখান সকলে।

বলে রাখি, রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প হল এই ‘দুয়ারে ডাক্তার’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে এসএসকেএমের চিকিৎসকরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোগীদের পরিষেবা দেবেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ীই শুরু হয়েছে এই প্রকল্প। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে আরামবাগের গোঘাট ও খানাকুল এলাকায় তিনদিনের জন্য শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। কিন্তু এই কর্মসূচির প্রথমদিনই ঘটে গেল এমন বিশৃঙ্খলা। বাকি দিনগুলিতে আদৌ নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা মিলবে কী না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এদিন গোঘাট ব্লকের স্বাস্থ্য শিবিরে বিশৃঙ্খলার কারণে সেখানে হাজির হন আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি বলেন, “একটা নতুন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুরুতে কিছু বিঘ্ন ঘটে। আজকে ডাক্তাররা রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু মাঝরাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ায় আটকে যান। তবে চিকিৎসকরা চলে আসার পর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিকিৎসা করাচ্ছেন”।

RELATED Articles