এবারে যাতে বাংলায় সবাই ভোট দিতে পারে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয় সেই জন্যই রাজ্যের সমস্ত বুথেই দখল নেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কেউ যদি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে তাহলে কি করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী?
এমন ছবিই ধরা পরল বাংলায়। টহল দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সেই সময় গ্রামবাসীরা সমস্বরে তাঁদের জানালেন, ‘আমাদের ভোট দিতে দেয় না। ভোটের আগে ভয় দেখানো হয়। ভোট দিতে চাই।’ যদিও এই খবর জানাজানি হওয়ার পরই তৃণমূলের তরফে দোষ চাপানো হয়েছে বিজেপির ঘাড়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে সিউড়ি ২ ব্লকের জানুরি মেটেগ্রামের ঘটনা। জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে সিউড়ি থানার অন্তর্গত সাঁইথিয়া বিধানসভা এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিদর্শনে যায়। কাশপাই, গ্যাংটে, জানুরি, মেটেগ্রাম সহ একাধিক জায়গায় রুটমার্চ করেন জওয়ানরা। সেখানেই তাঁদের হাতের কাছে পেয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামের বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন –WB Election 2021: ‘মিঠুন চক্রবর্তী মূলত একজন নকশাল’, অভিনেতার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে সৌগত রায়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিভিন্ন গ্রামে রুটমার্চ করার পর জওয়ানরা এসে পৌঁছন জানুরি গ্রামে। সেখানেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিজেদের নাগালে পেয়ে অভিযোগ জানান গ্রামের মহিলারা।
সমস্বরে তাঁদের স্পষ্ট কথা, ‘নিজেদের ভোট দিতে পারি না। শাসকদলের নেতারা ভোট দিয়ে দেয়।’ গ্রামের বাসিন্দা কালীদাসী ডোম, রত্না ডোমেরা বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা ভয় দেখায় আমাদের। বলে, ভোট দেওয়ার দরকার নেই। সেই অভিযোগই জানালাম আপনাদের।’
পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে অভিযোগকারীদের নাম, পরিচয় এবং বক্তব্য লিখে নেয়।
এখানেই শেষ নয়, পাশের গ্রামেও জওয়ানরা পৌঁছতেই সেখানেও তাঁদের ঘিরে ধরে অভিযোগ জানাতে থাকেন এলাকার মানুষ। মেটেগ্রামের বাসিন্দারা একজোট হয়ে পুলিশকে জানায়,’ভোটের আগেই ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে তৃণমূল কর্মীরা ভয় দেখাচ্ছেন। ভোটের পর গ্রামছাড়া করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।’ গৃহবধূ রাখী দাস বলেন, ‘যাতে শান্তিতে থাকতে পারি, ভোট দিতে পারি সে জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে জানালাম।’





