কোনও সময় মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা জমি—এই ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ওয়াকফ। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই ওয়াকফ সংক্রান্ত আইনই কি দেশের একাংশের সম্পত্তির উপর আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠছে? মানুষের মনে দানা বাঁধছে সন্দেহ—একবার যদি কোনও জমি ওয়াকফের আওতায় চলে যায়, তাহলে কি সেই জমি আর ফেরত পাওয়ার পথ থাকে না? এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজের নানা স্তরে।
দিন যত গড়াচ্ছে, ততই নানা রাজ্যের মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন। কোথাও বলা হচ্ছে—সুপ্রাচীন জমি হঠাৎ ওয়াকফ সম্পত্তি হয়ে গেল। কোথাও আবার অভিযোগ, ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে শুধুমাত্র ওয়াকফ বোর্ডের দাবি ঘিরে। সাধারণ নাগরিকদের এই আশঙ্কা আজ আর নিছক গুজব নয়, বরং একটি জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চোখ এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই।
ওয়াকফ সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পরই একাধিক পক্ষ তার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। আজ (বুধবার) সেই আবেদনেরই শুনানি হতে চলেছে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনও থাকবেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে খবর। যদিও এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ যাতে না দেওয়া হয়, সেই কারণে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হয়েছে এই সংশোধনী বিল। প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে চলা বিতর্কের পর বিলটি আইন রূপে পরিণত হয় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াকফ সংশোধনী আইন কার্যকর হয়। যদিও এতে খুশি নয় বিরোধীরা। লোকসভায় এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়াইসি। তিনিই প্রথম এই আইনের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে যান।
আরও পড়ুনঃ Cyber Crime : নিজের কিশোরী মেয়ের স্নানের ভিডিও ভাইরাল করল মা, পাশে ছিল প্রেমিকও! প্রেম ফাঁস হতেই মেয়েকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধ!
ওয়াকফ আইন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলা এই আইন মানবে না। তিনি বলেছেন, রাজ্যে ওয়াকফ আইন কার্যকর হতে দেবেন না। দেশের একাধিক রাজ্য থেকে উঠে আসছে প্রতিবাদের সুর। তাই আজকের শীর্ষ আদালতের শুনানির উপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী দিশা। সুপ্রিম কোর্ট কী মত দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা দেশ।





