এও সম্ভব! মৃত্যু হয়েছে অনেকদিন আগেই, এখন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির নিয়োগপত্র পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তালিকায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধও

দিনের পর দিন চাকরির দাবী নিয়ে রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের চাকরির খোঁজ নেই। এদিকে যারা আর বেঁচেই নেই, তাদের চাকরির নিয়োগপত্র পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মৃত্যু হয়েছে এমন চারজনকে পাঠানো হল প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির নিয়োগপত্র। এমনকি, ৬০, ৬৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, এমন ব্যক্তিদের কাছেও গিয়েছে নিয়োগপত্র।

কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি হুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফে এমন প্রায় ৬৬ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ জন আর বেঁচেই নেই আর বাকিদের মধ্যে অনেকের বয়সই পেরিয়ে গিয়েছে ৬০। এই নিয়ে হুগলির শিক্ষা মহলে তুমুল শোরগোল পড়েছে।

কেন এই বয়সে নিয়োগপত্র পেলেন প্রবীণরা, তা স্পষ্ট নয়। অবসরের সময় পেরিয়ে গিয়েছে, এখন এই নিয়োগপত্র নিয়ে আর কী হবে, সেই প্রশ্নই তুলছেন তারা। অনেক বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। নিয়োগপত্রে আবার স্কুলের নামও উল্লেখ রয়েছে। সেই ধোঁয়াশা কাটাতে সংশ্লিষ্ট স্কুলে ছুটতে হচ্ছে তাদের।

যে ৬২ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন ৬৪ বছরের দীনবন্ধু ভট্টাচার্য। তিনি জানাচ্ছেন, তিনি সেই বাম জমানায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। কিন্তু চাকরি পান নি। পরে প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। এরপর আদালতে মামলাও চলে বটে। এরপর এতগুলো বছর পেরিয়ে ষাট বছর পেরিয়ে যেতে এখন তাঁকে নিয়োগপত্র পাঠাল শিক্ষা সংসদ।

এও সম্ভব! মৃত্যু হয়েছে অনেকদিন আগেই, এখন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির নিয়োগপত্র পাঠাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তালিকায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধও
ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র

কী দাবী শিক্ষা সংসদের?

জানা গিয়েছে, এই সমস্ত নিয়োগপত্রে সই রয়েছেহুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন শিল্পা নন্দীর সই রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে যদিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আদালত যে রায় দিয়েছে, সেটাই কার্যকর করা হয়েছে। আদালতের রায়কে কার্যকর করা আমাদের দায়িত্ব। দফতরের আধিকারিকরা সেই কাজটিই করেছেন”।

এই বিষয়ে এবিপিটিএর কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহন পন্ডিত বলেন, “এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। শোনা যাচ্ছে, ১৯৮৩ সালে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, কিন্তু চাকরি হয়নি, তাঁরা ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন মামলা করেছেন। তিন বার মামলা করে রায় পেয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে নাকি তাঁদের সুবিধা কার্যকর হবে। শুনছি, একদিন জয়েনিং করেই, তাঁদের অবসর হয়ে যাবে। পেনশনের সুবিধাও পাবেন শুনছি”।

কিন্তু এক্ষেত্রে এবিপিটিএর কেন্দ্রীয় সভাপতির যুক্তি, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম ১০ বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি করতে হবে। তবেই তিনি পেনশন পাবেন। এক দিন কম হলেও তিনি পেনশন পাবেন না। গ্র্যাচুইটি পাবেন সেক্ষেত্রে”।

RELATED Articles