সাম্প্রতিককালে দুর্নীতি (Corruption) প্রসঙ্গ নিয়ে কার্যত নাজেহাল শাসক শিবির। নানান দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের একাধিক নেতার। প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার পাহাড় দেখে রাজ্যবাসীর চোখ কপালে ওঠে। তা নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। আর এরই মধ্যে এক তৃণমূল নেতার (TMC leader) ছেলের যে ছবি ভাইরাল হল, তা নিয়ে ফের অস্বস্তিতে পড়েছে ঘাসফুল শিবির (TMC)। তৃণমূল নেতার ছেলের কোলে দেখা গেল থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করে নি খবর ২৪x৭)।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। জানা গিয়েছে, যে ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তা হল গলসি ১ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি জাকির হোসেনের ছেলের। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাকির হোসেনের ছেলের কোলে ও দু’হাতে একাধিক টাকার বান্ডিল রয়েছে। আর এই ছবি সামনে আসতেই তৃণমূলকে ফের কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “ছবিটার সত্যতা কতটা আছে এটা দেখতে হবে। ওই টাকা কোথা থেকে এল, টাকার উৎস ব্যবসা থেকে নাকি বাড়িতে অন্য কোনও কারণে রাখা ছিল সেটা আগে খতিয়ে দেখতে হবে। না জেনে এ সম্পর্কে বলা খুব মুশকিল। আজকে আমাদের বিরোধী রাজনৈতিক দল অনেক ধরনের ছবি বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কী কারণে এই ছবি ভাইরাল হয়েছে সেটা আমাদের আগে দেখতে হবে। ছবিটা আসল না নকল সেটাও দেখতে হবে”।
অন্যদিকে এই বিষয়ে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা তো বাস্তব ঘটনা। এটাই ঠিক। এটাই সত্যি। তৃণমূলের উপরমহল থেকে নীচের মহল পর্যন্ত এটাই চলছে। ওরা কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করে। এটাই চলছে। এরা কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি করে। কয়লা চুরি করে, বালি চুরি করে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে নেয়। তৃণমূলের প্রত্যেকটা মানুষই চোর। এরা গোটা রাজ্যকে লুঠ করছে। এদের প্রতিটা নেতা-কর্মীর বাড়িতেই প্রচুর টাকা মিলবে। এই ঘটনা তাই নতুন নয়”।
এই ঘটনায় সাফাই দিয়ে অবশ্য জাকির হোসেন বলেন, “এটা এক বছর আগের ছবি। গত বছর আমার ছেলে এই ছবিটা তুলেছিল। একটা পোকল্যান্ড মেশিন কেনার জন্য কিছু টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তোলা হয়েছিল। লোন নেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্ক থেকে। ওই টাকাই ব্যাঙ্ক থেকে তুলে বাড়িতে রাখা ছিল। আমার ছোট ছেলে এই ছবি তুলেছিল। কী করে এই ছবি ভাইরাল হল বুঝতে পারছি না। আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও কাগজপত্র দেখলেই সব বোঝা যাবে”।





