হাতে গোনা কয়েক মাসের ব্যবধানেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। আর যা ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার পরিবেশ। ঘনঘন দলবদল, নেতাদের হুঁশিয়ারি, হুমকি, হাইভোল্টেজ সভা, দিল্লি থেকে দুঁদে নেতাদের আনাগোনা ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে বাংলার ভোটের।
এরই মাঝে এবার, বাংলায় ‘সন্ত্রাস মুক্ত’ নির্বাচনের দাবি পৌঁছল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে। রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে।
আবেদনকারী আর্জি জানিয়েছেন , রাজ্য বিধানসভা ভোটে বিরোধীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক আদালত। ভুয়ো ভোটারদের তালিকা থেকে সরানোর দাবির পাশাপাশি সম্প্রতি যে সমস্ত বিজেপি কর্মীর খুনের অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়েও ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনিত কউর ধান্দা নামে জনৈক এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।
একইসঙ্গে আবার আধা সেনা দিয়ে বাংলায় বিধানসভা ভোট করানোর দাবিও তুলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নতুন বছর এখনও পড়েনি, কিন্তু বাংলায় নতুন বছর আসার উত্তেজনা যেনও কিছুটা বেশি। কারণ এই বছর বাংলায় বিধানসভা ভোট। সরকার কি পরিবর্তন হবে? প্রশ্ন সবার মনে।
আর তাই একুশের ভোটের আগে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতির আবহ। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, জেলায় জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দলীয় কোন্দল, দলবদলের হিড়িক উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাজ্যবাসীর। ভোট আসার আগেই যদি পরিস্থিতি এতটা উদ্বেগের হয়, তাহলে ভোটের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তেই পারে।
সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও খানিকটা ঘোরাল করে তুলেছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেছে বিরোধী শিবির। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও বাংলার পুলিস প্রশাসন নিয়ে রোজই সরব হচ্ছেন। এরইমধ্যে বাংলায় অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোটের আবেদন পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে।
তবে এই জনস্বার্থ মামলার ভবিষ্যৎ কী? উঠছে প্রশ্ন! আইনজীবী মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার পুরো দায়িত্বই কমিশনের। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব চলে যায় নির্বাচন কমিশনের হাতে। কোড অফ কন্ডাক্ট বা আদর্শ আচরণ বিধি চালু হলে তখন যে কোনও অভিযোগ খতিয়ে দেখার অধিকার থাকে শুধুমাত্র কমিশনের। কিন্তু এখনও তো ভোটের দিনক্ষণই ঘোষণা হয়নি। এক্ষেত্রে কার কাছে হলফনামা চাইবে আদালত!





