ঔদ্ধত্য পুলিশের! জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানকে মারধর তিলজলা পুলিশের, মামলা রুজু জামিন অযোগ্য ধারায়

তিলজলায় শিশুকন্যা মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করতে কলকাতায় এসে হেনস্থা হতে হল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনকে। কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়ঙ্ক কানুনগোকে মারধরের অভিযোগ উঠল তিলজলা থানার ওসির বিরুদ্ধে। রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের পর এমনই অভিযোগ করলেন প্রিয়ঙ্ক কানুনগো।

গতকাল, শুক্রবার তিলজলায় মৃত শিশুকন্যার বাড়িতে যান জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়ঙ্ক কানুনগো ও এক মহিলা সদস্য। সেই সময় সেখানে পৌঁছয় রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনও। সেখানে সংঘাত হয় দু’পক্ষের। তাতে ছিলেন সুদেষ্ণা রায়, অনন্যা চক্রবর্তীরা।

রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের দাবী, জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এমন কিছু করতে চাইছে যাতে রাজ্যের বদনাম হয়। পাল্টা প্রিয়ঙ্ক প্রশ্ন তোলেন, এই রাজ্যের পুলিশ, কমিশন কী লুকোতে চাইছে। একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সত্যটা সামনে আসুক সবাই চায়। শুধু বাংলার প্রশাসন চায় না”।

প্রিয়ঙ্কের দাবী, শরীরে লাগানো ক্যামেরাতে গোটা ঘটনা রেকর্ড করছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই ক্যামেরা তাঁর হাত থেকে পুলিশ ছিনিয়ে নেয় বলে জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্ক। তিনি বলেন, “পুলিশ আমায় মেরেছে। ওই সাদা উর্দি পরা পুলিশ আমায় পিটিয়েছে”। চেয়ারম্যানের দাবী, তিলজলা থানার পুলিশ থানার ভিতর তাঁকে মারধর করেছে।

সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রিয়ঙ্ক বলেন, “বাংলার পরিস্থিতি সাংঘাতিক জায়গায় পৌঁছেছে। পুলিশ আমার গায়ে হাত তুলে দিল। এ জিনিস ভাবাই যায় না”। তিলজলা থানার ওসি বিশ্বক মুখোপাধ্যায় তাঁকে মারধর করেছে বলেও দাবী করেন তিনি।

লালবাজার সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ওই ওসির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ অর্থাৎ মারধর, ৩৫৩ অর্থাৎ সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, ৩৪১ অর্থাৎ অবৈধভাবে আটকে রাখা, ৫০৬ অর্থাৎ হুমকি ও ৩৪ অর্থাৎ সম্মিলিতভাবে অপরাধ সংগঠিত করার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

RELATED Articles