রাজ্য

ভাঙড়ে অশান্তির ঘটনায় আটক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ ৪৩, অশান্তির মাঝেই তৃণমূল নেতার বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার বোমা, ৩ আইএসএফ কর্মীকেই গ্রেফতার পুলিশের

ভাঙড়ে তৃণমূল ও আইএসএফ কর্মীদের সংঘর্ষের পর এখনও উত্তপ্ত সেই এলাকা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ মোট ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসবের মধ্যেই আজ, রবিবার তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বোমা। এই ঘটনায় তিন আইএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার ভাঙড়ে গুলি চলাকে কেন্দ্র করে। গতকাল, শনিবার দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ধর্মতলার রানি রাসমনি রোডে সভা হওয়ার কথা ছিল আইএসএফের। অন্যদিকে এই সভা বানচালের চেষ্টা তৃণমূল, এমনই অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়ে এদিন সকালে ভাঙড়ে দু’দলের একপ্রস্থ ধুন্ধুমার হয়। এরপরই রানি রাসমণি রোডে থাকা আইএসএফ কর্মীরা ধর্মতলা মোড়ের কাছে অবস্থানে বসে পড়ে। দাবী ওঠে, ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে হবে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। আইএসএফ কর্মীদের অবস্থান তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তারা নিজেদের দাবীতে অনড় থাকে। সেই সময় নওশাদ ম্যাটাডোরে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎই তিনিও বক্তব্য শুরু করলে পুলিশ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনে। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করে লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়।

আইএসএফের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি-সহ মোট ৪৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হেয়ার স্ট্রিট, ৬ জন নিউ মার্কেট এবং বাকিদের কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ, রবিবারই অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে।

এদিকে আবার এই অশান্তির পর থেকেই ভাঙড় এখনও উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। আজ, রবিবার সকালে ভাঙড়ের হাতিশালায় তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের বাড়ির কাছ থেকেই উদ্ধার হয় ব্যাগভর্তি বোমা। আরাবুলের অভিযোগ, চক্রান্ত করে তাঁর বাড়ির কাছে চাষের জমিতে ওই বোমা রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় তিন আইএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করে কাশীপুর থানার পুলিশ।

Back to top button
%d